সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি প্রথমে পড়াশোনা করেছিলেন চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে। করা হয়ে ওঠেনি। তারপর এক খ্রিষ্টানকে বিবাহের জন্য হলেন ত্যাজ্য পুত্র। সেই তিনিই পরে হয়ে ওঠেন ঠাকুর পরিবারের অন্যতম গর্বের জায়গা। তিনি জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর।

জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর ছিলেন ঠাকুর পরিবারের পাথুরিয়াঘাটা শাখার গোপীমোহন ঠাকুরের (হিন্দু কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা) পৌত্র এবং প্রসন্নকুমার ঠাকুরের পুত্র। হিন্দু কলেজে তাঁর সহপাঠী ছিলেন রাজনারায়ণ বসু ও গোবিন্দ্রচন্দ্র দত্ত (তরু দত্তের পিতা)। ১৮৪১ সালে মাসিক ৪০ টাকা সিনিয়র স্কলারশিপ নিয়ে ১৮৪২ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। যদিও তিনি চিকিৎসাবিদ্যার পাঠ সমাপ্ত করেননি। ১৮৫১ সালে শিক্ষক কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবে জ্ঞানেন্দ্রমোহন খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন এবং কৃষ্ণমোহনের কন্যা কমলমণিকে বিবাহ করেন। এর ফলে প্রসন্নকুমার তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করেন। প্রসন্নকুমার তাঁর বিশাল সম্পত্তি ভ্রাতুষ্পুত্র মহারাজা বাহাদুর স্যার যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরকে দান করে গিয়েছিলেন। অবশ্য জ্ঞানেন্দ্রমোহন পরে মামলা করে সম্পত্তির কিছু অংশ পেয়েছিলেন।

১৮৫৯ সালে চিকিৎসার জন্য জ্ঞানেন্দ্রমোহন সস্ত্রীক ইংল্যান্ডে যান। আরোগ্যলাভের পর তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু আইন ও বাংলা ভাষার শিক্ষক রূপে যোগদান করেন। আইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৮৬২ সালে তিনি লিঙ্কন’স ইনে বারে ডাক পান। তিনিই ছিলেন প্রথম এশীয় ব্যারিস্টার। ১৮৬৪ সালে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ভারতে ফিরে আসেন এবং ১৮৬৫ সালে কলকাতা হাইকোর্টে যোগ দেন। ১৮৬৯ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই কন্যা ভবেন্দ্রবালা ও সত্যেন্দ্রবালাকে নিয়ে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ইংল্যান্ডে ফিরে যান।
১৮৭৭ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী পুত্রকন্যা নিয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে কিছুদিনের জন্য তাঁর বাড়িতে উঠেছিলেন। ইংল্যান্ডেই জ্ঞানেন্দ্রমোহনের মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, ঠাকুর পরিবার এর ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু আঠার শতকে বাংলায় ইউরোপিয় বনিকদের বেনিয়া হিসেবে। আঠারো শতকের শেষের দিকে এই পরিবারের সাফল্যগাঁথা পাওয়া যায়। উনিশ শতকের শুরু থেকে এই পরিবারের সার্বিক জয়যাত্রা শুরু। উনিশ শতকের প্রথম পাদে দেখা যায় জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে এই পরিবারের বিস্ময়কর সাফল্য শতকের শুরুতে ব্যবসা উদ্যোক্তা, জমিদার, ধর্মীয় নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাহিত্যিক, আইন ব্যবসায়ী, রাজনীতিক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদেরকে গৌরবোজ্জ্বলভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। লৌকিক কাহিনী মতে, বাংলায় আগত আদি পাঁচ ঘর ব্রাহ্মণদের প্রধান ভট্টনারায়ণ থেকে ঠাকুর পরিবারের যাত্রা শুরু। গবেষকদের ধারণা, ঠাকুরদের আদিবাস যশোর জেলায়। কোনো এক সময় ঠাকুর পরিবারের কয়েকজন সদস্য কোনো সুফী সাধকের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম ভাবাপন্ন হন বা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তখন থেকে এই পরিবার হিন্দু সমাজে জাত হারায় এবং পীরালি ব্রাহ্মণ হিসেবে সামাজিক পদবী লাভ করে।

এ পরিবারের প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব জয়রাম ঠাকুর (মৃ. ১৭৬২)। তিনি প্রথম চন্দননগরে ফরাসিদের বেনিয়া ছিলেন এবং পরে তিনি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেনিয়া হিসেবে যোগদান করেন। নবাব মীরজাফর ১৭৫৭ সালে ২৪-পরগণা রবার্ট ক্লাইভকে জায়গীর হিসেবে দান করেন। এ জায়গীর ব্যবস্থাপনার জন্য ক্লাইভ জয়রামকে আমিন হিসেবে নিয়োগ করেন। জয়রাম স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন ইস্ট ইন্ডিয়া কর্তৃক সদ্য প্রতিষ্ঠিত কলকাতা নগরীর গোবিন্দপুরে। জয়রাম ঠাকুর থেকে কলকাতার ঠাকুর পরিবারের গৌরবান্বিত ইতিহাস শুরু হয়। ইংরেজরা ঠাকুর শব্দটির উচ্চারণ করতো টেগোর। দীর্ঘকাল ইংরেজদের সঙ্গে মেলামেশার ফলে ‘টেগোর’ উচ্চারণটি স্থায়ী রূপ লাভ করে।

কলকাতার পাথুরিয়াঘাটায় দর্পনারায়ণ ঠাকুর বসতি স্থাপন করেন। তাঁর বংশ দ্বারাই গঠিত হয় ঠাকুর পরিবারের সিনিয়র শাখা। দর্পনারায়ণের ভাই নীলমনি ঠাকুর চট্টগ্রামের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেরেস্তাদার ছিলেন। তিনি কলকাতার মেছুয়াবাজারে বসবাস করতেন পরবর্তীতে ওই জায়গাটি জোড়াসাঁকো নামে পরিচিতি পায়। আর তাঁর বংশের দ্বারাই গঠিত হয় ঠাকুর পরিবারের জুনিয়র শাখা। ইংরেজদের বেনিয়া হিসেবে কাজ করে দুই ভাই রাতারাতি তাদের ভাগ্য গড়ে তুলেছে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অধীন সৃষ্ট নতুন ভূমি ব্যবস্থায় তারা বাংলার বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক জমি ক্রয় করে। ঠাকুর পরিবারের ইতিহাস থেকে বলা যায়, উনিশ শতকের শেষ পর্যন্ত কলকাতা সোসাইটিতে (Culcatta Society) এ পরিবার দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল; পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার- সিনিয়র শাখা এবং জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার- জুনিয়র শাখা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।