জেনারেশন গ্যাপ শব্দটা এখন বেশ প্রচলিত৷ তবে কি এই জেনারেশন গ্যাপ? কেন এই শব্দের এত ব্যবহার? আসলে বর্তমান প্রজন্ম আর অতীত প্রজন্মের মধ্যে একটা বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে৷ যার ভেদাভেদ এই জেনারেশন গ্যাপ নামে পরিচিত এখন৷ তবে একটা কথা মানতেই হবে বর্তমান প্রজন্মকে ট্যাকল করা কিন্তু মোটেই সহজ কাজ নয়৷ প্রযুক্তির যুগে ছন্দ কেটেছে সমাজ ব্যবস্থার, ক্রমশ কমপ্লিকেটেড হয়ে উঠেছে৷

আর তার মধ্যে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও সেই জটিল পরিবেশেই বড় হয়ে উঠছে৷ ফলস্বরূপ তাদের মধ্যে মুড সুইংস এবং অন্য কমপ্লিকেশনস বাড়ছে৷ শুনে যতটা লঘু লাগছে ব্যাপারটা আদৌ ততটা লঘু নয়৷ তাই আধুনিক পেরেন্টরা ঠিক কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন বাড়ির খুদেটিকে? যার জন্য কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করতে হবে বর্তমান পেরেন্টদের৷ তার প্রথম বিষয় সময়৷ অর্থাৎ বাড়ির খুদেটির সঙ্গে একটা কোয়ালিটি সময় কাটানো প্রয়োজন৷ আপনি খুব ব্যস্ত৷ সময় দিতে পারেন না আপনার ছোট্ট সোনাকে৷ এ সব কিন্তু কোনও অজুহাত নয়৷ আপনার ব্যস্ততার জন্য তো আপনার সন্তান দায়ী নয়৷ বাড়ি ফিরে অনেক ক্লান্তির মধ্যেও সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন সন্তানকে৷ সে-ও আপনার সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকে৷ আপনাকে ক্লান্ত দেখে আপনার বাচ্চাও আপনার ক্লান্তি ঠিক বুঝবে৷

 

দ্বিতীয় পদ্ধতি কখনও কোনও নিয়ম জোর করে ওদের উপর চাপিয়ে দেবেন না৷ প্রচুর নিয়ম মেনে চলতে হবে এই শর্ত দিয়ে থাকলে খুব ভুল করছেন৷ মুঠোয় বালি যত চেপে ধরবেন তত তা বেরিয়ে যেতে থাকবে৷ তাই বেসিক কিছু নিয়ম শেখান৷ তাতেই আপনার সন্তান যথেষ্ট আপনাকে মানতে পারবে৷ যেমন ধরুন শেখান যাতে মারপিট না করে, মিথ্যে কথা না বলে, বড়দের সম্মান করে ইত্যাদি৷ তার পাশাপাশি আপনার খুদেকে প্রয়োজন মতো স্বাধীনতা দিন৷ বর্তমানে ইনডিপেন্ডেন্ট হওয়া বিশেষ প্রয়োজন৷ আপনার সন্তান কি পড়বে, কি খাবে এই ছোট জায়গাগুলোতে ওকে স্বাধীনতা দিন৷

আর যেটা কখনওই করবেন না সেটা হল শাস্তি দেবেন না৷ তাতে আপনার সন্তান কখনওই ডিসিপ্লিন বিষয়টি শিখবে না৷ তবে কিছু নিয়ম শেখা অবশ্যই দরকার৷ কিন্তু অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা বা খেতে না দেওয়া, এরকম করে ডিসিপ্লিনড তৈরি করা যায় না৷ এসব করলে উল্টে শিশুটি ট্রমায় চলে যেতে পারে৷ সব সময় উৎসাহ দিয়ে যান৷ এনকারেজ শিশুদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভাবে কাজ করে৷ কখনওই বলবেন না এটা তুমি পারবে না৷ সবসময় বলুন তুমি পারবে৷ চেষ্টা করো৷ যে কোনও ভালো কাজে আপনি যে তার পাশে আছেন সেটা বুঝিয়ে দিন৷ সময় পেলেই একসঙ্গে খেলুন৷ তাতে আপনার খুদের সঙ্গে আপনার মানসিক বন্ধন আরও শক্ত হবে৷ আর সর্ব শেষ যেটা প্রধান বিষয়, কখনওই আপনার সন্তানের সঙ্গে অন্য কারোর তুলনা করবেন না৷ তাতে ওর আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেবে৷ যা কোনও ভাবেই ভালো ফল দেবে না৷