কলকাতা : নির্বাচনের আগে রাজ্যে প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, “রাজ্যের সব কৃষকদের ব্যাঙ্কে ১৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি জিতে এলে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা দিদি কৃষকদের এই টাকা দিতে দিচ্ছেন না।” নির্বাচন হয়ে গেছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারেনি। রাজ্যে ক্ষমতায় তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কথা প্রধানমন্ত্রীকেই মনে করিয়ে দিলেন। রীতিমতো চিঠি লিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন, “রাজ্যের কৃষকদের তথ্য দিয়ে দিয়েছি। এবার কৃষকদের ব্যাঙ্কে ১৮ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিন।” একেই বলে “মাস্টার্স স্ট্রোক।”

২০২১-এর নির্বাচনী লড়াই শেষ হয়েছে। বিজেপির ২০০ আসনের দাবি ধোপে টেকেনি বাংলার মাটিতে। বিপুল আসন নিয়ে তৃতীয় বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর ভোট পর্বে মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির অন্যতম অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি হয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিজের সরকারের নাম দিয়ে চালাচ্ছেন, নয়ত চালু করতে দিচ্ছেন না। সেই সূত্রেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ গোটা বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, ক্ষমতায় আসা মাত্রই বাংলার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের বকেয়া ১৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। নিজেদের ম্যানিফেস্টোতেও এই কথা লিখেছিল বিজেপি। আর ক্ষমতা আসা মাত্রই বিজেপির অস্ত্রেই বিজেপিকে বধ করতে ময়দানে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার কৃষকদের ব্যাঙ্কে সেই টাকা দিতে বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই প্রসঙ্গে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোটের আগে কৃষকদের ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই টাকাটা দেওয়া হোক।” চিঠিতে গত ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গ টেনেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখনও কৃষি মন্ত্রকের তরফে কোনও উপযুক্ত জবাব পাইনি।

প্রসঙ্গত, বুধবার শপথ নেওয়া মাত্রই ভ্যাকসিন ও ওষুধ নিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে প্রথম চিঠি লিখেছিলেন মমতা। বিনামূল্যে সবাইকে টিকা দেওয়ার দাবি সেই চিঠিতে তিনি করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছিলেন, টিকার জোগান বাড়ানোর কথাও। চিঠিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন, “২৪ ফেব্রুয়ারি টিকা কিনতে চেয়ে রাজ্যের তরফে আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। বিনামূল্যে সকল রাজ্যবাসীর জন্য টিকাকরণ শুরুও করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, কেন্দ্রের তরফে কোনও সাড়া পাইনি। হাসপাতালে বেড, অক্সিজেন, ওষুধ, টিকার ঘাটতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। তাই আবার আপনাকে চিঠি লিখলাম।” শুধু তাই নয়, রেমডেসিভির, টোসিলিজুমারের মতো ওষুধের জোগান বাড়ানোর বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠির ২৪ ঘণ্টাও কাটল না, এবার প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের অর্থ নিয়ে পত্র-বাণ মুখ্যমন্ত্রীর।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.