লখনউ: ১৪বছরের ছোট্ট তামান্না৷ পড়াশুনা করতে খুবই ভালোবাসে৷ কিন্তু স্কুলে কয়েক ঘন্টা পেরোলেই অধীর আগ্রহে সে অপেক্ষা করে৷ কখন ছুটির ঘন্টা বাজবে? শুধু তামান্না নয়৷ রক্ষা, কাজল, মনীশা সকলেই পড়াশুনা করতে বেজায় ভালোবাসলেও স্কুল ছুটির জন্য সময় গুনতে থাকে৷ আর ঢং ঢং শব্দে ছুটির ঘন্টা বাজলেই এক মিনিটও অপেক্ষা না করে সটান বাড়ির উদ্দেশে ছুট লাগায় তারা৷

তামান্না, মনীশা, কাজল এরা সকলেই আগ্রার যমুনাপার স্কুলের ছাত্রী৷ যেখানে পড়ুয়াদের সংখ্যা প্রায় শ’খানেক৷ এদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা মাত্র ৪০৷ কিন্তু সারাদিন জল তেষ্টায় গলা মুখ শুকিয়ে গেলেও জল খাওয়ার সুযোগ নেই৷ কারণ এই স্কুলে একটিও শৌচালয় নেই৷ তাই খিদে তেষ্টা সব মুখ বুজে সহ্য করতে হয় এই স্কুলের ছাত্রীদের৷ এই একই সমস্যার সম্মুখীন হয় ছেলেরাও৷ তবে, মেয়েদের পরিস্থিতি ভয়াবহ৷

ওই স্কুলের এক ছাত্র জানিয়েছে, মাঝে মধ্যেই তারা যমুনা নদীর তীরে যান শৌচকর্ম সারেন৷ কিন্তু বন্যার সময়ে নদীর জল ফুলে ফেঁপে ওঠে৷ সেই সমস্যায় প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়, তাই তারা স্কুল যাওয়াই মাঝে মধ্যে একেবারে বন্ধ করে দেয়৷

স্কুল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি৷ কারণ এই একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন স্কুলের শিক্ষিকারাও৷ ব্লক এডুকেশন অফিসারকে একাধিকবার লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে৷ কিন্তু তাঁর তরফ থেকে কোনও আশ্বাস মেলেনি বলে আফসোস করেছেন স্কুলের শিক্ষিকারা৷

এই স্কুলের থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে রয়েছে আরও একটি প্রাইমারি স্কুল৷ যে স্কুলের সমস্যা আরও অদ্ভুত৷ কারণ এই স্কুলে শৌচালয় থাকলেও সেটি ব্যাবহার করতে দেওয়া হয়না৷ কারণ শৌচালয় পরিষ্কার করার কোনও ব্যবস্থাই নেই এই স্কুলে৷ একাধিকবার জেলা প্রশাসনকে বলা হলেও সদুত্তর মেলেনি কোনও৷

জগদীশপুর, ঈদগাহ, নাগলা পাড়ি এবং কুইলাতে বিভিন্ন স্কুলে অভিযান চালানোর পর উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য৷ ৫০০টি স্কুলে শৌচালয়ের ব্যবস্থা নেই৷ পাশাপাশি ৮০০টি স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই৷ কেন্দ্রের তরফে পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শৌচালয়ের অভাবে স্কুলে যেতে বেঁকে বসছে পড়ুয়ারা৷