নারী ঋতুবতী হয় প্রকৃতির ছন্দে। তবে তা কেনই বা অপবিত্র হবে? আজ আমাদের সমাজ এই নিয়ে নানাভাবে এগোচ্ছে। কিন্তু এক গ্রামের মহিলাদের এই বিশেষ সময়ে লুকিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় গ্রামের এক প্রান্তে।

সেখানে ওই পরিস্থিতিতে একাকী জঙ্গলের ধারে জীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর ‘গাউকোর’ বা ঋতুকালীন ঘরে থাকতে হয় ওই কয়েকটা দিন। সমাজচ্যুত হওয়ার ভয়ে এই সময়টায় মেয়েদের মায়েরাই এগিয়ে দেয় এক ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে। ঋতুর প্রথম চার দিন এই উপজাতির কাছে ওই নারী ‘অপবিত্র’।

মহারাষ্ট্রের গড়ছিরৌলি জেলার এটাপল্লিটোলা গ্রামে এই নিয়ম চালু রয়েছে। এমনকী বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ নেই, ঠিকমতো পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা নেই এমন অবস্থায় মারাও যায় কোনো কোনো মেয়ে। ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর এক গাউকোরে পড়ে ছিল এক মহিলার মৃত দেহ। জ্বরে রক্তচাপ বেড়ে মস্তিষ্কের ধমনী ফাটে তার। নিস্তেজ হতে-হতে তারা অকালেই ঝরে যান মৃত্যুর কোলে।

আরো পোস্ট- মারাত্মক কিছু রোগে কাজ দেবে ওয়াইন!

আবার ২০১৫ সালের নভেম্বরে শোনা যায় যে পাদাটোলার এক ভাঙাচোরা গাউকোর থেকে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে গেছে কোনো বন্য প্রাণী। সাপের কামড়ে, নড়বড়ে দেয়াল ধসে পড়ে, ফাটা চালের উপর গাছ ভেঙে পড়েও মারা গেছেন অনেকেই। তবুও কাছে আসেনি কেউ, সাড়াও দেয়নি আপনজনেরা।

২০১১ সালে মহারাষ্ট্রের স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওই উপজাতি-অধ্যুষিত গড়ছিরৌলি জেলার ২২৩টি গাউকোরের অবস্থা ঘুরে দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করে। তখন প্রকাশ পায় গাউকোরগুলির বসবাসের অযোগ্য সেই অবস্থা।

ঋতুকালীন সময়ে মহিলাদের দেহ পবিত্র থাকে না এই ধারণা থেকেই কেরলের শবরীমালা মন্দিরে নির্দিষ্ট বয়সের মেয়েদের ঢুকতে দেওকা হতো না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও নারীর কাছে সেই মন্দিরের পথ সুগম হয়নি। তারপর হয়েছে অনেক প্রতিবাদ। ভারতে ঋতুকালীন সময়ে অযৌক্তিক নানা নিয়মকে কেন্দ্র করে মহিলাদের যে ঘেরাটোপে আটকে দেওয়া হয় তার ভার একমাত্র সইতে হয় ওই নিষ্পাপ মেয়েগুলিকেই। তার পরেও প্রান্তবাসী জনজাতির মেয়েদের মাসের এই কয়েকটা দিনের খবর কেউ রাখে না।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.