লখনউ: প্রাক্তন বিজেপি মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা চিন্ময়ানন্দ ধর্ষণ কাণ্ডের মূল অভিযোগকারিনী শাহজাহানপুর আইন কলেজের ছাত্রী ওই তরুণীকে বুধবার আদালতের বাইরে থেকে গ্রেফতার করে নিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে তোলা আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তিনি যখন শাহজাহানপুর আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানাতে যাচ্ছিলেন তখন তাকে তাঁর গাড়ি থেকে তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ওই তরুণীর বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকা তোলার চাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপির ওই নেতা। জানা গিয়েছে বিজেপি নেতার করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এবং তোলা চাওয়ার একটি ভিডিও দেখে তাঁর ভিত্তিতেই বুধবার তাকে আদালত চত্ত্বর থেকে গ্রেফতার করে সিট। যদিও তোলা আদায়ের সন্দেহে ইতিমধ্যে ওই তরুণীর তিন বন্ধুকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু তোলা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করে গিয়েছেন ওই তরুণী।

আরও পড়ুন : ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বিক্রম, খুঁজে পেল না নাসাও

এদিকে চিন্ময়ানন্দের জামিনের আর্জি মঙ্গলবার খারিজ করে দেয় উত্তরপ্রদেশের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। সূত্রের খবর, এবার তাকে জামিন পেতে গেলে দায়রা আদালতে আবেদন জানাতে হবে। এদিকে গ্রেফতারের পর থেকেই শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন বিজেপির ওই বর্ষীয়ান নেতা।

সোমবার তোলা আদায়ের মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বিশেষ তদন্তকারি দলকে নির্দেশ দেওয়া হয় এই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে। বুধবার দিন শাহজাহানপুর আদালতে তাঁর জামিনের শুনানির হলেও তাঁর জেল হেপাজতের আদেশ স্থগিত করে দেয় উত্তরপ্রদেশ জেলা আদালত।

আরও পড়ুন : পাঠানকোট সেনাঘাঁটিতে ফের হামলার আশঙ্কা, চূড়ান্ত সতর্ক বায়ুসেনা

প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর আইন কলেজের ছাত্রী বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ এনে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। তারপরই চিন্ময়ানন্দকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বর্তমানে তাকে আরও ১৪ দিনের জেল হেপাজতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে শাহজাহানপুর আদালত।

শুধু তাই নয় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই ভিডিওতে নির্যাতিতা তরুণী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছিলেন।