স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: ক্লাসে ভূগোলের খাতা দেরি করে জমা দেওয়ায় দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ডাস্টার দিয়ে মারার আভিযোগ উঠল এক পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির সাপ্টিবাড়ির কালুয়ামোহন হাইস্কুলের ঘটনা। মারের চোটে আহত ছাত্রীকে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ছাত্রীর হাতে রক্ত জমে কালসিটে পড়ে গিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে স্কুলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বসু রথেকে জানা গিয়েছে, “শুক্রবার দশম শ্রেণীর সেকেন্ড টার্মের পরীক্ষা চলছিল। প্রথম অর্ধের পরীক্ষার সময়েই ঘটে ওই ঘটনা।” ওই একই ক্লাসরুমে থাকা আরেক শিক্ষক জানিয়েছেন, “সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ছাত্রীটি খাতা দিচ্ছিল না। আমি বেশ কয়েকটি পেজ নিয়েছিলাম।

সেগুলো সাজাচ্ছিলাম। আমি নরেন্দ্রবাবুকে বলি, সামনের বেঞ্চের ছাত্রীর কাছ থেকে খাতা নিন। আমি দিচ্ছি। কিন্তু উনি এসব না করে সুমিতার থেকে খাতা ছিনিয়ে নিয়ে টেবিলে রাখা ডাস্টার দিয়ে মারতে শুরু করেন।” ডাস্টারের আঘাতে বাড়ি ফেরার সময় থেকেই হাতে যন্ত্রনা শুরু হয় সুমিতার। বাড়িতে এসে সে দেখে তার হাতে কালসিটে পড়ে গিয়েছে। এরপরেই সে ঘটনাটি তার বাড়িতে জানায়। ক্রমশ যন্ত্রণা বাড়ায় ময়নাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় তাকে।

প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, “প্রথমে আমি বিষয়টা জানতাম না। তবে ঘটনা পুরো জানার পর নরেন্দ্রবাবুকে আমি ছাত্রীর বাড়ি যেতে বলেছিলাম।” অভিযুক্ত পার্শ্বশিক্ষক ঘটনার কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন। তিনি শুধু বলেছেন, “ভুল হয়ে গিয়েছে।”
প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাত্রীর বাবা সুভাষ চন্দ্র রায় কৃষক। তিনি বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক বাড়ি এসে ক্ষমা চেয়ে গিয়েছেন। তাই থানায় অভিযোগ করিনি। এদিন প্রধান শিক্ষকও ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করেন।”

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের মারে আহত হয়েছে ছাত্র ছাত্রীরা। কেন্দ্রীয় সরকারের আইন হয়ে গিয়েছে কোনও ছাত্র ছাত্রীকে শিক্ষকরা গায়ে হাত দিতে পারবেন না। এমনকি বকাও চলবে না। কিন্তু সেই আইন আইনকে উল্লঙ্ঘন করেই একের পর এক ছাত্র পেটানোর ঘটনা ঘটে চলেছে রাজ্যে। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয় রাজ্যের বাইরেও একই ঘটনা বারবার খবরের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। এই বিষয়ে কেন শিক্ষকরা নিজেদের সামলাতে পারছেন না তা নিয়ে থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন। তবে উল্টো দিক থেকে কিছুক্ষেত্রে ছাত্রদের আচার ব্যবহারও এমন খারাপ পর্যায় পৌঁছায় যে সেক্ষেত্রে তাকে অন্তত বকাঝকা করাটাও প্রয়োজন হয়ে পড়ে।