স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: লাভ জিহাদের ছায়া বাংলায়। শুধু তাই নয়, লাভ জিহাদের কারণে মৃত্যুর মতো চরম পরিণতির শিকার হতে হয়েছে এক কিশোরীর। এমনই অভিযোগ দায়ের হয়েছে রামপুরহাট থানায়।

ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার রামপুরহাটে। মৃত কিশোরীর নাম সুমি লেট। তাকে অপহরণ করে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা ধানু লেট।

রামপুরহাট পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ধানু লেট। পেশায় রিক্সাচালক ধানু দিনরাত পরিশ্রম করতো মেয়েকে শিক্ষিত করার জন্য। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়া তো অনেক দূরের কথা, এই পৃথিবীতেই আর নেই ধানু লেটের মেয়ে সুমি।

চলতি বছরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল মৃত সুমির। সেই মতো চলছিল প্রস্তুতি। কিন্তু তাল কাটল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সুমি। পড়নয় ঘটিত বিষয়ে জড়িয়ে রামপুরহাট পুরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ ঝন্টুর সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল সুমি। রামপুরহাট থানায় নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন ধানু লেট। দিন কয়েক পরে সুমিকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যায় পুলিশ।

এরপরে ফেব্রুয়ারি মাসে ফের নিখোঁজ হয়ে যায় সুমি। সেটা ছিল ওই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ। আবারও রামপুরহাট থানায় দায়ের হয় অপহরণের লিখিত অভিযোগ। কিন্তু সেই সময় সুমিকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে শেখ ঝন্টু। পুলিশ কোনও খোঁজ পায়নি। বারবার একই ঘটনা ঘটার কারণে পুলিশ উপযুক্ত কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ধানু লেট। তাঁর কথায়, “পুলিশ ঠিক সময়ে একটু কড়া হলে এই চরম পরিণতি হতো না।”

দীর্ঘ দিন কোনও খবর পায়নি রামপুরহাটের লেট পরিবার। শনিবার সিউড়ি হাসপাতাল থেকে সুমির মৃত্যুর খবর আসে। হাসপাতালে গিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে ধানুর লেটের। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দিন ১৫ আগে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় সিউড়ি হাসপাতালে ভরতি করা হয় সুমিকে। অই হাসপাতালেই শনিবার মৃত্যু হয় তার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এদিন সুমির মৃত্যুর পরে তার দেহ নেয়নি শেখ ঝন্টু। উলটে ধানু লেটের বাড়ির ঠিকানা দিয়ে চম্পট দেয় শেখ ঝন্টু।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির অমতে ভিন ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করে মৃতা কিশোরী। সুমি নাবালিকা হওয়ার কারণে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছিল লেট পরিবার। সেই অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থাও নিয়েছিল। কিন্তু পরে একই ঘটনা ঘটে। সেই সময় ঝন্টু শেখের নাগাল পাওয়া যায়নি। সমগ্র ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পলাতক ঝন্টুর খোঁজ চলছে।

অন্যদিকে, ধানু লেট দাবি করেছেন যে সিউড়ি শহরের আশেপাশেই সুমিকে নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকছিল ঝন্টু। সুমিকে ঝন্টুই পুড়িয়ে মেরেছে বলেও দাবি মৃতার বাবা ধানু।