স্টাফ রিপোর্টার, কোলাঘাট : মাধ্যমিকে ৭ টি বিষয়ের মধ্যে ৬ টি বিষয়েই লিখিত পরীক্ষায় শূন্য পেয়েছে মেয়ে। কারণ হিসেবে খাতা দেখায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের গাফিলতির অভিযোগ আনল পরিবার। ঘটনায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দ্বারস্থ হবেন বলে সাংবাদিকদের জানালেন পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের তমালিকা বাগের বাবা পরিতোষ বাগ।

২১ মে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিকের। এবছরের ফলাফল মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ইতিহাসে রেকর্ড বলে সদর্পে জানিয়েছিলেন পর্ষদ প্রধান কল্যানময় গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু অন্যদিকে, তমালিকার মার্কশিটও এক অন্য নজির গড়ল মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ইতিহাসে। এ বছর পূর্ব মেদিনীপুরের কোলা ইউনিয়ন যোগেন্দ্র গার্লস হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল কোলাঘাটের বাসিন্দা তমালিকা বাগ। কিন্তু ফলাফল প্রকাশ হতে দেখা যায়, মাধ্যমিকের ৭ টি বিষয়ের মধ্যে ৬ টি বিষয়েই শূন্য পেয়েছে তমালিকা। কেবলমাত্র গণিতের লিখিত পরীক্ষায় ১ নম্বর পেয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার সবকটিতেই তমালিকা পেয়েছে ১০ নম্বর করে। এ ঘটনা বিরল মাধ্যমিকের ইতিহাসে।

তমালিকার বাবা পরিতোষবাবু জানিয়েছেন, তার মেয়ে পর্ষদের গাফিলতির শিকার। নইলে এই ঘটনা হয় কি করে! তিনি আরও জানান, গত বছরও মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল তার মেয়ে। সেবারও ঠিকমতো খাতা দেখে নি পর্ষদ। গত বছরও ৭ টি বিষয়ের মধ্যে ১ টি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষায় (পদার্থ বিজ্ঞান) ‘০’ পেয়েছিল তমালিকা। ইতিহাসে ৪, ভূগোলে ৬, বাংলায় ৬০, ইংরাজিতে ৪৬, গণিতে ৩৮, জীবন বিজ্ঞানে ৫০ পেয়েছিল সে। মৌখিক পরীক্ষায় প্রত্যেকটিতেই সে পেয়েছিল ১০ নম্বর করে। ফলে সে বছরও মাধ্যমিকে সফল হতে পারে নি তমালিকা। এ বছর আবারও তাকে বসতে হয়েছিল মাধ্যমিকে। কিন্তু এবার আরও স্পষ্ট হল পর্ষদের গাফিলতি বলেই দাবি তমালিকার বাবার।

পরিতোষবাবু kolkata 24×7-কে বলেন, আমি পেশায় একজন চিকিৎসক। আমি ওকে পড়িয়েছি, আমি জানি ও কেমন রেজাল্ট করতে পারে। ও রীতিমত ভাল পড়াশুনো করত। আমি ওর মক টেস্টও নিতাম। ওর এই ফল হতেই পারে না। আমি পর্ষদের দ্বারস্থ হব।

পরিতোষ বাবু জানান, এ বিষয়ে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন ঘটনাটি খুবই আশ্চর্যজনক। সেই সঙ্গে দুঃখজনকও। তিনি আমাকে আগামিকাল এসে তার ইস্যু করা একটি চিঠি নিয়ে যেতে বলেছেন। আমি সেই চিঠি নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে পর্ষদের আঞ্চলিক কার্য্যালয়ে যাব।