কলকাতা: বারবার সতর্ক করছে প্রশাসন। তা সত্বেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না অনেকেই। আর তাতেই বাড়ছে বিপদ। ঠিক যেমনটা হল তেহট্টে। কোয়ারেন্টাইনে থাকলে ওই যুবতীর থেকে বাকিদের শরীরে করোনা ছড়াতে পারত না।
তেহট্টের যুবতীর ক্ষেত্রে লন্ডনের যোগ রয়েছে। এর আগে রাজ্যে আরও দু’জন আক্রান্ত হয়েছেন লন্ডন থেকে ফিরে। আর এই যুবতী লন্ডন থেকে না ফিরলেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাঁর এক ভাইয়ের, যিনি ইতিমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত।

যুবতীর এক ভাই ১৬ মার্চ লন্ডন থেকে দিল্লিতে ফেরেন। তাঁকে নিতে যুবতী ছাড়াও পরিবারের আরও কয়েক জন দিল্লি যান। সেখানে পারিবারিক গেট টুগেদার হয়। লন্ডন থেকে আসা সেই ভাইয়ের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। তাঁকে দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

কিছু দিনের মধ্যে ২২ বছরের ওই যুবকের ভাইয়ের শরীরেও সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়। তাঁকে রাখা হয় লোহিয়া হাসপাতালের কোয়রান্টিনে। চিকিৎসকেরা ওই যুবতীকে ২৮ দিন কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু যুবতী এবং তাঁর পাঁচ সঙ্গী দু’দিনে রাজধানী এক্সপ্রেসে চলে আসেন শিয়ালদহে।

সেখান থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জারে পৌঁছন বেথুয়াডহরিতে। সেখান থেকে অটোয় তেহট্টের বার্নিয়া গ্রামের বাড়িতে ফেরেন ওই ছ’জন। তরুণীর এক সঙ্গী ফেরেন বিমানে।

এরপর জ্বরের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করলে তেহট্টের ফিভার ক্লিনিকে যান ওই যুবতী। সেখানে তাঁর লন্ডন থেকে আসা ভাই ও তাঁর করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেন। এরপরই বিপদের আভাস পেয়ে যান স্বাস্থ্য ভবনের জনস্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকেরা। বাবা-মা ছাড়া মোট সাত জন সরাসরি ওই যুবতীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁর কাছাকাছি এসেছিলেন আরও ছ’জন। তড়িঘড়ি তাঁদের মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে লালারসের নমুনা পাঠানো হয় এসএসকেএমে। স্বাস্থ্য ভবনের খবর, আক্রান্তদের সংস্পর্শে কারা এসেছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তাঁদের খোঁজে নেমে পড়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের ‘ট্র্যাকিং টিম’।