ইম্ফল: গাছ লাগিয়েছিল ছোট্ট মেয়েটা। ছোট্ট ছোট্ট হাতে পুঁতেছিল দুটো গুলমোহর গাছ। কিন্তু খালের পাড় পরিষ্কার করতে নেমে সাফাই কর্মীরা নির্বিচারে কেটে ফেলে সেই গাছ দুটি। আর তা দেখেই বুক ফাটা কান্নায় ভেসে যায় নিষ্পাপ চোখ দুটি।

এই সম্পূর্ণ দৃশ্য ভিডিও আকারে ক্যামেরা বন্দীও হয়ে যায় নিমেষে। ভাইরাল হতেও সময় লাগেনি সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছোট্ট শিশুর সবুজ প্রীতি নজরে আসে প্রশাসনের। রাতারাতি ৯ বছরের সেই শিশুকে বেছে নেওয়া হয় ‘গ্রিন মণিপুর মিশন’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে। আর এই খবর জানাজানি হতেই নেট দুনিয়া এখন মশগুল ৯ বছরের ইলাংবাম ভেলেন্তিনার প্রশংসায়।

চলতি বছরের ২২ জুন ‘গ্রিন মণিপুর মিশন’-এর সূচনা হয়। সূচনা করেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। এবার এই প্রকল্পেরই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বেছে নেওয়া হল রাজ্যের ৯ বছরের এক শিশুকে। ইলাংবাম ভেলেন্তিনা দেবী বর্তমানে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী। মণিপুরের আমুতম্বি ডিভাইন লাইফ ইংলিশ স্কুলের পাঠরত। প্রথম শ্রেনীতে পড়া কালীন নদীর ধারে ওই গুলমোহর গাছ দুটি পুঁতেছিল সে।

প্রতিদিন নিজের হাতে গাছ দুটির যত্ন করত সে। চার বছরে যা মহীরুহে পরিণত হয়। শনিবার সাফাই কর্মীরা গাছ দুটি কেটে ফেলে। যে ঘটনা চোখের সামনে দেখেই চোখের জল সামলে রাখতে পারে নি ছোট্ট ভেলেন্তিনা।

সোশ্যাল মিডিয়াতে যথেষ্ট পরমাণে নজর রাখেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। তাই রাজ্যের এই ঘটনা নেট দুনিয়ায় নজরে আসতেই এই মেয়েকেই নিজের মস্তিস্ক প্রসূত প্রকল্পের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করবেন বলে স্থির করে বসেন তিনি। রবিবার ভেলেন্তিনার অনুরোধেই ওই রাস্তাতেই নদীর পাড় বরাবর প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে গাছ পোঁতার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে মনিপুর সরকারের তরফে। রাজ্যের বন দফতরের তরফে ২০টি চারা গাছ পোঁতা হবে। ভেলেন্তিনার এলাকার ইয়ুথ ক্লাবও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলাকায় ১,০০০ টির মত গাছ পোঁতার।