কলকাতা: ২০১৫ সালে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে গিরিশ পার্ক থানার সাব ইন্সপেক্টর জগন্নাথ মন্ডলকে গুলি চালানোর ঘটনায় বৃহস্পতিবারই রায়দান করল নগর দায়রা আদালত। গিরিশ পার্কে পুলিশের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় তৃণমূল নেতা গোপাল তিওয়ারী-সহ তেরো অভিযুক্তের বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিলেন নগর দায়রা আদালত।

ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূলের নেতা গোপাল তিওয়ারি বর্তমানে জেলে রয়েছেন। এই মামলার চার্জশিট পেশ করেছিল পুলিশ। মামলার শুনানির শেষে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে এদিন রায় ঘোষণা করেন বিচারক সোমনাথ মুখোপাধ্যায়।

কলকাতা নগর দায়রা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। গোপাল তিওয়ারি-সহ মোট ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা-সহ এক গুচ্ছ ধারায় অভিযোগ এনেছিল পুলিশ।

২০১৫ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতা পুরসভা ভোটের দিন শেষপর্বে গিরিশ পার্কে গুলিচালনা ও বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে রাজ্যের শাসকদলের আশ্রিত একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। গুলিতে জখম হন তৎকালীন গিরিশ পার্ক থানার সাব ইনস্পেক্টর জগন্নাথ মণ্ডল। বর্তমানে তিনি কসবা থানার অতিরিক্ত ওসির দায়িত্বে রয়েছেন। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসাবে গোপাল তিওয়ারিকে কিছু দিন পর ২৮ মে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ধরা পরে গোপালের কয়েক জন সঙ্গীও। গোপালের ডেরায় মিনি অস্ত্র কারখানারও হদিস মেলে দাবি করেছিল পুলিশ। আদালত সূত্রের খবর, এই মামলায় ১৩ জন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও ছ’জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

২০১৭-য় বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন বিস্তর আইনি টানাপোড়েন হয়েছে। এমনকী খোদ বিচারকের বিরুদ্ধে কার্যত ‘নিরপেক্ষতা’র প্রশ্ন তুলে প্রথমে নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক ও পরে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সরকারপক্ষ। মামলা ওই এজলাস থেকে সরানোর দাবিও করেছিল পুলিশ। যদিও দুই আদালতই পুলিশের আবেদন খারিজ করে দেয়। এই মামলার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে আইনি লড়াই পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টেও। গত এপ্রিলে দেশের শীর্ষ আদালত ছ’মাসের মধ্যে বিচার শেষের নির্দেশ দেয়।