চণ্ডীগড়: গিল-লিনের ব্যাটে ‘পঞ্জাব বধ’ করে প্লে-অফের আশা জিইয়ে রেখেছে কলকাতা নাইটরাইডার্স৷ রবিবার রাতে আরব সাগলের তীরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারালে প্লে-অফের অংক ঠিক হয়ে যাবে নাইটদের৷ ইডেনে মুম্বইকে হেলার হারানোর পর ওয়াংখেড়েয় ‘হিটম্যান’ হারানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ডিকে অ্যান্ড কোং৷

শুক্রবার মোহালিতে কিংস ইলভেনকে হারানোর ক্ষেত্র বড় ভূমিকা নেন পঞ্জাবের ভূমিপুত্র নাইট সেনা শুভমন গিল৷ তাঁর ৪৯ বলে ৬৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে সাত উইকেট জয় পায় কেকেআর৷ ১৮৪ রান তাড়া করে ২ ওভার বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় নাইটরা৷ ইনিংস শুরু করে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠে ছাড়েন পঞ্জাবরে বছর উনিশের ডানহাতি ব্যাটসম্যান৷ ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন আইপিএলে প্রথমবার ম্যাচের সেরা হয়ে গিল বলেন, ‘ আমার হোম গ্রাউন্ডে ম্যাচের সেরা হওয়া দারুণ অনুভূতি৷ এর থেকে ভালো কিছু হতে পারে না৷’

নিজের ইনিংসের ব্যাখ্যা করে গিল আরও বলেন, ‘বড় পার্টনারশিপ হওয়াটা দরকার ছিল৷ আমার স্ট্রাইকিং রেট ৮০-১০০ হলেও আমাদের রানরেট ৯ থেকে ১০-এর মধ্যে ছিল৷ সুতরাং আমি ক্রিজে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই৷ বাবা-মা এবং আমার গ্রামের বেশ কিছু আত্মীয় এই ম্যাচ দেখতে এসেছিল৷ ওদের সামনে পারর্ফম করতে পেরে ভালো লাগছে৷ আমাদের হাতে আর একটি ম্যাচ রয়েছে৷ এটা জিতলে আমাদের প্লে-অফের সম্ভাবনা থাকবে৷’

রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে সঙ্গী হিসেবে লিনকে পেয়েছিলেন গিল। পাওয়ার প্লে-তে ৬২ রান যোগ করেন দুই নাইট ওপেনার৷ কিন্তু ২২ বলে ৪৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অজি ওপেনার ফিরলেও শেষ অবধি ক্রিজ আঁকড়ে থেকে দলকে সহজ জয় এনে দেন গিল। মোহালির আইএস বিন্দ্রা স্টেডিয়ামে গ্যালারিতে উপস্থিত গিলের মা-বাবা। তাঁদের সামনে পঞ্জাব তনয়ের এই ম্যাচ জেতানো ইনিংস বহুদিন মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে ক্রিকেট অনুরাগীদের।

ছেলের অর্ধশতরানে গ্যালারিতে বসে লাফিয়ে উঠলেন বাবাও। দায়িত্বশীল, ধ্রুপদী, সময়োপযোগী যে বিশেষণই ব্যাবহার করা হোক না কেন, গিলের এদিনের ইনিংসের কাছে হয়তো হার মানবে যে কোনও বিশেষণই। ওপেনার হিসেবে বরাবরই জাত চিনিয়েছেন নাইটদের এই প্রতিশ্রুতিময় ব্যাটসম্যান। আর শুক্রবার রান তাড়া করতে নেমে অপরাজিত ইনিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে গিলকে এনে দেয় প্রথম ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার।