মিলান: পুতিনের দেশে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ইতালির স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার সঙ্গে শেষ হয়ে গেল ফুটবলে বুফোঁ অধ্যায়! চোখের জলে ফুটবলকে বিদায় জানালেন ইতালি অধিনায়ক জিয়ানলুইগি বুফোঁ৷ ফলে টানা ছ’টি বিশ্বকাপ খেলার বিশ্বরেকর্ড অপূর্ণ থেকে গেল আজুরি গোলকিপারের৷

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে ‘আজুরি’দের হাহাকার…

স্যান সিরিও ৭৪ হাজার দর্শকের সামনে ‘হোয়াইট-হট’ পরিবেশে আজুরিরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও সুইডেনের গোলের মুখ খুলতে পারেনি৷ ম্যাচ গোলশূন্য ভাবে শেষ হওয়ায় স্টকহোমে প্রথম লেগে জ্যাকব জনসনের গোলে ১-০ জেতায় রাশিয়া বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেয়ে যায় সুইডেন৷ এ নিয়ে মোট তিনবার বিশ্বকাপে নেই ইতালি৷ ১৯৩০ প্রথম বিশ্বকাপের পর ১৯৫৮ সুইডেন বিশ্বকাপেও যোগ্যতাঅর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল আজুরিরা৷

ইতালি অধিনায়ক তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার বুফোঁ আগেই জানিয়েছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন তিনি৷ কিন্তু রুশ বিশ্বকাপে ইতালি যোগ্যতাঅর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় চোখের জলে ফুটবলকে বিদায় জানালেন ৩৯ বছরের আজুরি গোলকিপার৷

আরও পড়ুন: বিরাট-ধোনিদের এবার দিতে হবে DNA টেস্ট

চোখের জল মুঝতে মুঝতে বুফোঁ বলেন, ‘নিজের জন্য দুঃখিত নয়, কিন্তু ইতালি ফুটবলের কাছে দুঃখিত! যারা ম্যাচটা খেলেছে তারাই জানে এটা কতটা কষ্টের৷ আমরা সেরাটা দিতে পারিনি৷ তাই আজ আমাদের দুঃখ প্রকাশ করার ভাষা নেই৷’

২০০৬ বিশ্বকাপ জয়ী গোলিকাপার বুফোঁর বিদায়ে ফুটবলবিশ্বে খসে গেল এক তারা৷ রাশিয়া বিশ্বকাপে আজুরিদের দেখা না-গেলেও ইতালি ফুটবলের ভবিষ্যত দেখছেন সদ্য প্রাক্তন ইতালি অধিনায়ক৷ বুফোঁ জানান, ‘ইতালি ফুটবলের ভবিষ্যত উজ্জ্বল৷ গর্ব, দক্ষতা ও দৃঢ়তা দিয়ে আমরা আবার নিজেদের পায়ে দাঁড়াব৷’

২০ বছরের কেরিয়ারে দেশের হয়ে সর্বাধিক ১৭৫টি ম্যাচ খেলেছেন বুফোঁ৷ তাঁর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন আন্দ্রে বারজাগলি, ডি রোসি এবং জর্জিও চেলেনি৷ বুফোঁ বলেন, ‘আমার সঙ্গে এদিন বারজাগলি, রোসি ও চেলিনিও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাছে৷ প্রত্যেককে ধন্যবাদ৷’

আরও পড়ুন: টি-২০ ক্রিকেটে মাহিকে পরামর্শ মহারাজের

সালটা ১৯৯৭৷ কুয়াচ্ছান্ন মস্কোয় জিয়ানলুকা পাগলিইকা আহত হওয়ায় বুফোঁকে মাঠে নামিয়েছিলেন তৎকালীন ইতালি কোচ সিজার মালদিনি৷ সেই দেশের হয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুফোঁ৷ তার পর এক নম্বর গোলকিপার এবং দেশের ক্যাপ্টেন৷ বুফোঁ হলেন একমাত্র গোলকিপার যিনি উয়েফা ‘প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার’ হয়েছেন৷

১২ বছর বয়স থেকে গোলকিপিং করলেও অফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা শুরু করেছিলেন বুফোঁ৷ মিডফিল্ডার হিসেবে প্রায় ৪০টি ম্যাচও খেলেছেন৷ কিন্তু তার পর তেকাঠির নিচে দাঁড়িয়ে বিশ্বের সেরা গোলকিপার হয়েছেন৷

- Advertisement -