তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের প্রায় শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও ভূতের আতঙ্ক পিছু ছাড়ছেনা বাঁকুড়া সদর থানা এলাকার মানকানালী গ্রামের এক গৃহবধূর। কথাটা অদ্ভুতূড়ে শুনতে লাগলেও এটাই সত্যি বলে দাবি ওই গৃহবধূর পরিবারের লোক জনেদের। যদিও এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করেছেন বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা।

বছর চার আগে মানকানালী গ্রামে ভুঁই পরিবারে বিয়ে হয় তাঁর। এতো দিন এই সব ঘটনার সম্মুখীন না হলেও গত কয়েক দিন ধরে গৃহবধূর ‘ভূতের আতঙ্কে’ দিশেহারা পরিবার। তাঁর পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে কোনও এক অদৃশ্য শক্তির ‘টার্গেট’ তিনি। কখনও কেউ তাকে পাথর ছুঁড়ে মারছে বা ঠেলে ফেলে দিচ্ছে। আবার কখনও শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানোর চেষ্টা করছে। এমনকি বাড়িতে সর্ষে ছড়িয়ে দিচ্ছে কেউ। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই এই কাজের পিছনে কে তা নাকি চোখে দেখা যাচ্ছেনা।

অশরীরির হাতে ‘আক্রান্ত’ গৃহবধূ বলেন, বিয়ের পর চার বছর হলো এখানে এসেছি। এই ধরণের ঘটনার সম্মুখীন এই প্রথম। কেউ পিছন থেকে ঠেলে ফেলে দিচ্ছে, এটা অনুভব করতে পারলেও কে সেই কাজ করছে তা তিনি বুঝতে পারছেননা বলে তিনি দাবি করেন।

 

গৃহবধূর স্বামী সূদর্শণ ভুঁই এর দাবী, এসব ঘটনা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। গুণে গুণে ৩৭ টি পাথর ছুঁড়ে মারা হয়েছিল। কিন্তু কে ছুঁড়ছে তা তিনি দেখতে পাননি বলেই দাবি করেন। এই অবস্থায় জনৈক ওঝাকে ডেকে এনে ঝাড়ফুঁকের মতো ঘটনাও ঘটেছে। কাজ হয়নি তাতেও।

গ্রামবাসী সুকুমার দে থেকে ওই গৃহবধূর বাবা দেবাশীষ চিনা সকলের দাবি, মেয়ে বাড়ির ভিতরে গেলেই এই সব ভৌতিক কাণ্ড কারখানা ঘটছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বাড়িতে ওঝা ডেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপরেও অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই তাঁরা জানান। এই ঘটনার পর কম বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সকলের মধ্যেই।

আলী শেখ নামে ঐ ওঝার দাবী, এই বাড়িতে একটি ব্রহ্মদৈত্য বিরাজ করছে। তাকে তিনি বোতল বন্দী করে ওই সংসারে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন। যদিও শুক্রবার রাতে ওঝার হাজারো কেরামতি কাজে আসেনি বলেই মানকানালী গ্রামের ঐ পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক জয়দেব চন্দ্র ঐ এলাকায় তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচী করা হবে। ওঝা, ঝাড়ফুক, তুকতাকে রোগ সারানো যায়না। এই কাজ আইনবিরুদ্ধ। সারা দেশের পাশাপাশি আমাদের রাজ্যেও এবিষয়ে আইন আছে। প্রয়োজনে আইনের সাহায্য নিতে হবে। ঐ ঘটনার পিছনে কোন কারণ আছে জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট পরিবারকে চিকিৎসকের সাহায্য ও কাউন্সিলিং করানোর পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ঐ এলাকায় যারা অতিভৌতিক ঘটনা মেনে নিচ্ছেন সেই সব মানুষদের মধ্যে জনমত গঠন করতে হবে বলেও তিনি জানান।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।