কালীপুজোর দিনের অমাবস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহল রয়েছে। অনেকেই মনে করে ভূত, প্রেত, দানো, অপদেবতা, ডাইনিদের জন্য আদর্শ এই দিন। এটা শুনেই হয়ত অনেকে নাক সিঁটকাবেন। তবে ভূতে বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী দুধরণের মানুষেরই ভূত সম্পর্কে কৌতুহল রয়েছে।পশ্চিমবাংলার একদম আনকোরা কিছু “ভৌতিক জায়গার” কথা কৌতুহলী পাঠকদের জন্য Kolkata24x7 নিউজ পোর্টালে।

জঙ্গলমহলের ডাইনি

 

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া , মেদিনীপুর , ঝাড়গ্রাম জেলার এমন অনেক গ্রাম রয়েছে যেখানে এখনও ‘‘কালো জাদু’’ এবং ডাইনি বিদ্যা অভ্যেস করেন এমন অনেক লোক রয়েছেন৷ শোনা যায় অমাবস্যার রাতে শ্মশানের চারিদিকে গোল করে ঘিরে একসঙ্গে অনেকে ডাইনি বিদ্যার অভ্যেস করেন৷ এই সময় মহিলা এবং পুরুষ উভয়ের গায়ে কোনওরকম কাপড় জামা থাকে না বলে জনশ্রুতি৷ এই সময় ডাইনিদের দেখা পাওয়া হয় লোকজন সাধারণ মানুষ হয় অসুস্থ হয়ে পড়ে নয় মারা যান বলেও লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে৷

ডাও হিলের মাথাবিহীন ভূত, কার্সিয়াং

ডাও হিলের ওপরে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া বয়েজ স্কুল হল কার্সিয়াং-এর সমস্ত অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত ঘটনাবলীর মূল কেন্দ্র। ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে বাড়ি, রাস্তায় নাকি স্কন্দকাটা ভূতের দাপিয়ে বেড়ায়৷ অন্ধকারের মাঝে লাল চোখের এক মেয়ে ভূত নাকি লোকজনের পিছুও নেয়! এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি রহস্যজনক মৃত্যু গায়ের রোম খাড়া করে দেয়।

সুন্দরবনের ভূতুড়ে আলেয়া

সুন্দরবনের এক জলাভূমিতে পথচারী ও পর্যটকরা একপ্রকার আলেয়ার আলো দেখতে পায় যা দেখতে অনেকটা জেলের ছায়ার মতো। স্থানীয় লোকেদের মতে, যে ব্যক্তি ওই আলোর পিছু নেওয়ার সাহস করেছে সে আর কখনো ফিরে আসেনি।

পুরুলিয়ার বেগুনকোদারে

পশ্চিমবাংলার মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত ভূতুড়ে জায়গা বোধহয় পুরুলিয়ার বেগুনকোদার নামক এক রেলস্টেশন৷ প্রায় ৪২ বছর ধরে বন্ধ ছিল। ওই স্টেশনের এক গার্ড একদিন সাদা শাড়ি পরা এক মহিলাকে রেলট্র্যাকের ওপর হাঁটতে দেখে। পরদিন রহস্যজনকভাবে ওই গার্ডের মৃত্যু হয়।
বর্তমানে স্টেশনটি খোলা হলেও মাত্র ৫ টি ট্রেন ওখানে দাঁড়ায়। তবে বিকেল ৫:৪৫ এর পর কোন ট্রেন ওখানে দাঁড়ায় না।

সেণ্ট প্যাট্রিক স্কুল, আসানসোল

আসানসোলের সেণ্ট প্যাট্রিক স্কুলের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের মতে ওখানকার চিলেকোঠায় ভূত দেখতে পাওয়া যায়।

গড়বেতার গনগনি

বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নামে পরিচিত এই জায়গাটির দূরত্ব কলকাতা শহরে থেকে ১৮০ কিলোমিটার প্রায়৷ শিলাবতা নদীর পাড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এই জায়গাটির সুনাম যেমন রয়েছে তেমনই বদনামও রয়েছে রাতের গনগনির৷ পুরানের বক রাক্ষসের গল্প তো রয়েইছে পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দার অনেকেই রাতের দিকে গনগনির দিকে পা বাড়াতে চান না৷ কারণ হিসেবে জনশ্রুতি রয়েছে রাতের অন্ধকারে গনগনিতে নেমে আসে অশরীরা৷ মাঝে মাঝে এখানে লোকজনকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়৷

সরডিহার ট্রেন লাইন

ঝাড়গ্রাম জেলার জহ্গল ঘেরা রেল স্টেশন সরডিহা৷ ২০১০ সালের আগে অবধি এখান কোন রকম ভৌতিক কাহিনী প্রচলিত ছিল না৷ কিন্তু ২০১০ সালের ২৮ মে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে ভয়ঙ্কর ট্রেন দূর্ঘটনা ঘটায় মাওবাদীরা৷ এরপর থেকে রেললাইন সংলগ্ন অঞ্চলে অতৃপ্ত আত্মাদের আত্মাদের আর্তনাদ শোনা যায় বলে গ্রামবাসীদের দাবি৷

প্রতিবেদক- শেখর দুবে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও