স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: অতিক্রান্ত ৪৮ ঘণ্টা৷ নিভেছে উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলার চেয়ার কারখানার ভয়াবহ আগুন। তবে আতঙ্কের রেশ কাটেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। গোটা চেয়ার কারখানাটি এখন ধংস্বস্তুপ।

তবে বুধবার সকালে ওই কারখানা চত্বরে গিয়ে দেখা গেল এদিনও কারখানায় এসেছেন নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের আত্মীয়রা। তারা নিজেরাই কারখানার বিভিন্ন ঘরে ঢুকে প্রিয়জনদের দেহ খোঁজার চেষ্টা করছেন।

গত সোমবার এই কারখানায় কাজে এসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যান ৫ জন শ্রমিক। ওই শ্রমিকদের নাম সুবোধ রায়, নিত্যানন্দ রায়, পল্টু দুয়ারি, সঞ্জীব পরিয়া এবং মুন্না প্রসাদ। বুধবারও কারখানা চত্বরে উপস্থিত ছিল দমকলকর্মীরা।

তারা এদিন বলেন, ‘আগুন সম্পূর্ণ নিভে গিয়েছে। তবে কোনও মৃতদেহ কারখানার ভিতর থেকে উদ্ধার হয়নি। কারখানাটি এখন যেন আবর্জনার স্তুপ।’ নিখোঁজ সঞ্জীব পারিয়ার বাবা নিমাই পারিয়া নিজেই সকাল থেকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন ছেলের দেহ। বললেন, ‘সোমবার কাজে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয় আমার ছেলে। এখনো প্রশাসনের কর্মীরা আবর্জনার স্তুপ পরিষ্কার করেনি । বুঝতে পারছিনা কোথায় ওর দেহ রয়েছে। এই আবর্জনার স্তুপ পরিষ্কার হলে আমাদের খুঁজে পেতে সুবিধা হত ।’

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের দিন এই কারখানায় ৬৫ জন শ্রমিক কাজ করছিল বলে জানা গিয়েছে৷ তারমধ্যে ৫ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর । যদিও প্রশাসন এই খবরের কোন নিশ্চয়তা স্বীকার করেনি।

এই কারখানায় সব মিলিয়ে বিভিন্ন শিফটে অন্তত ২০০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। কাজ হারিয়ে এখন অন্যান্য শ্রমিকরাও কার্যত পথে বসেছেন। কারখানার মালিকপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

দুদিন আগেও যে কারখানায় শ্রমিকদের কোলাহল ছিল, আজ সেই কারখানা কার্যত মৃত্যুপুরী৷ কারখানার সামনে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের শেষবারের মত দেখার আকুতি নিয়ে যন্ত্রনায় ছটফট করছেন নিখোঁজ ৫ শ্রমিক পরিবারের প্রিয়জনরা৷