গাজিপুর: দূর থেকে দেখলে মনে হতেই পারে গল্প-উপন্যাসে পড়া ধূসর রঙা পাহাড়! কিন্তু কাছে গেলেই সব ভোঁ-ভা! বরং বিকট দুর্গন্ধে গুলিয়ে উঠতে পারে আপনার গা। দিনের পর দিন নানাভাবে ময়লা জমতে জমতে দিল্লির গাজিপুরের পেল্লাই আবর্জনার স্তুপের চেহারা এখন পাহাড় মাফিক! শোনা যাচ্ছে, এভাবে উচ্চতা বাড়তে থাকলে নাকি ২০২০ সালে গিয়ে তাজমহলের উচ্চতাকেও ছাপিয়ে যাবে এই আবর্জনা পাহাড়ে!

জমা হওয়া আবর্জনা রূপ নিয়েছে পাহাড়ের। দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে এলাকাবাসীর। ক্রমেই টেকা দায় হয়ে পড়েছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। অথচ কারও কোনও নজর নেই। হেলদোল নেই প্রশাসনেরও। পূর্ব দিল্লির ইঞ্জিনিয়ার অরুণ কুমারের কথায়, ‘‘উচ্চতার নিরিখে গাজিপুরের ধাপা বর্তমানে ৬৫ মিটার বা ২১৩ ফুট উঁচু হয়ে গিয়েছে। যা বর্তমানে কুতুব মিনারের উচ্চতাকে স্পর্শ করে ফেলেছে।

প্রতিদিন প্রায় দু’হাজার টন আবর্জনা ওই জায়গায় ফেলা হয়। তাই প্রতি বছর লাফিয়ে লাফিয়ে দৈত্যাকৃতির চেহারা নিয়ে বেড়ে চলেছে আবর্জনার স্তূপটি। প্রতি বছর তা ১০ মিটার করে উঁচু হয়ে চলেছে। তাজমহলের উচ্চতা ৭৩ মিটার। যদি এই হারে বাড়তে থাকে তবে আগামী বছরেই তাজমহলের উচ্চতাও ছাপিয়ে ফেলবে আবর্জনার স্তূপটি।”

তবে এটাই প্রথম নয়। প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের দাবি, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরেও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই ধাপা। বৃষ্টির জলে ধাপায় আবর্জনার ধসে মৃত্যু হয়েছিল দুজনের। সামনেই বর্ষা আসছে। আবারও গত বছরের স্মৃতি ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবর্জনা স্তূপের আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা৷

১৯৮৪ সাল থেকে গাজিপুরের এই জায়গায় আবর্জনা ফেলা হয়। ২০০২ সালে ধারণ ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে আবর্জনার পরিমাণ। আবর্জনা ভরে গেলে, তা আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলাই নিয়ম। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আবর্জনা নষ্ট করার জন্য কোনও উদ্যোগ নেয় নি প্রশাসন। পরিবর্তে দিনের পর দিন নিজের মতো করেই আয়তনে বাড়ছে আবর্জনার স্তূপটি। এলাকা পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদরাও।