স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এলাকাবাসীর অনেক দিনের ক্ষোভ ছিল৷ দিনের পর দিন পেরিয়ে গেলে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ৷ এই নিয়ে সাংসদ দেব উদাসীন বলেও অভিযোগ ছিল এই লোকসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের একাংশ। এমনকি এই বিষয়ে দীপক অধিকারীকে বারবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ।

পড়ুন আরও- ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

প্রসঙ্গত, গত পাঁচ বছর আগে ঘাটাল মাস্টার-প্ল্যান দ্রুত চালু করবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট চেয়েছিলেন দেব। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত চালু হয়নি। ফলে মানুষের মধ্যে একটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রচারে এই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানকে ইস্যু করতে পারেন বিরোধীরা। আর তা আঁচ পাচ্ছেন অভিনেতা দেব।

কারণ গত কয়েকদিন আগেই বিজেপির প্রার্থী ভারতী ঘোষ প্রচারে বেরিয়ে মাস্টারপ্ল্যান না হওয়াকেই প্রচারের হাতিয়ার করেছেন। আর তাই আজ বৃহস্পতিবার ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে প্রচারে নেমেই মাস্টারপ্ল্যান না হওয়ার কারণ জানালেন দেব।

ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে প্রচার সভা করেন তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারী৷ সেখানে তিনি জানান, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে সংসদে বাংলায় প্রশ্ন তুলেছিলাম। তা গ্রাহ্যও হয়েছে। তবে কেন্দ্রের তরফে কোনও টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু হয়নি।

এই লোকসভা কেন্দ্রের সব থেকে বড় সমস্যা নিকাশি পরিষেবা। একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। নিকাশির সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষায় জলবন্দি হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান গড়ে তোলার ঘোষণা করা হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ভোট এলেই সমস্যা দূর করার কথা বলা হলেও তার বাস্তব রূপ পায় না বলে অভিযোগ। তাই এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। নতুন করে দেবকে প্রার্থী করা নিয়েও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। আর তা বুঝতে পেরেই বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাড়েই ছেড়ে দিলেন তিনি, বলছেন রাজনৈতিকমহলের একাংশ।

ঘাটাল লোকসভা তৃণমূলের প্রার্থী দীপক অধিকারী। যদিও বাংলার মানুষদের কাছে তিনি শুধুই “দেব” নামে পরিচিত। গতবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল লোকসভা থেকে তিনি প্রথমবার তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয়বারের জন্য তাঁর ওপরেই আস্থা রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেবের প্লাস পয়েন্ট পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত সাতটি বিধানসভাই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দখলে। ফলে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী দীপক অধিকারী।