লখনউ: আতঙ্কের নাম করোনা মহামারী। আর এই একটা মহামারীর কোপে দুনিয়াজুড়ে যেন হাঁফ ছেঁড়ে বেঁচেছে প্রকৃতি। সংক্রমণ এড়াতে যখন গৃহবন্দি মানুষ,তখন প্রাণভরে তাজা নিঃশ্বাস নিচ্ছে অসুস্থ পৃথিবী। আর এই নিদারুণ দুর্দিনে করোনা যেন প্রকৃতিকে শাপে বর দিয়েছি। যারফলে প্রায় প্রতিদিনই বিষ্ময়কর নানা ঘটনার সাক্ষী থাকতে পারছেন আমজনতা।

সম্প্রতি,তেমনই একটি মন ভালো করা দারুণ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন ফরেস্ট অফিসার সুশান্ত নন্দা। ওই বনাধিকারিকের শেয়ার করা পোস্টে দেখা গিয়েছে, যমুনা নদীর তীরে মহানন্দে ঘুরে বেড়াছে বিরল প্রজাতির ঘড়িয়াল বা মেছো কুমির। ‘ঘড়িয়াল’ নামটির প্রসঙ্গে আমরা খুব একটা বেশী পরিচিত নয়।

তবে মেছো কুমির বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জলচর একটি ছোটো সরীসৃপ প্রাণীর ছবি। তবে ঘড়িয়ালও রেপ্টিলা শ্রেণীভুক্ত বিরল প্রজাতির এক সরীসৃপ প্রাণী। এরা দৈর্ঘ্যে ৪থেকে ৭ মিটার হয় এবং কিছুটা লাজুক,শান্ত প্রকৃতির হয়। এই সরীসৃপের প্রধান খাদ্য মাছ। সেই থেকেই এর নাম হয়েছে মেছো কুমির। এক সময় আমাদের দেশের গঙ্গা,যমুনা ও চম্বল নদীতে এই ঘড়িয়াল প্রচুর দেখা যেত।

তবে মানুষের অত্যাধিক লালসার জেরে ধীরে-ধীরে বিলুপ্তপ্রায় এই সরীসৃপটি। ফরেস্ট অফিসারের শেয়ার করা পোস্টে দেখা গিয়েছে, যমুনার তটে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশকিছু ঘড়িয়াল। চম্বল নদী থেকে যমুনায় আসার পর ডিমও দিয়েছে তারা। আর সেই ডিম ফুটে পাঁচটি বাচ্চাও হয়েছিল।

তবে দুটি বাচ্চা মারা গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। করোনার সংক্রমণ রোধে গত ২৪ মার্চ থেকে দফায় দফায় লকডাউন লাগু রয়েছে দেশে। এই অবস্থায় অন্যান্য নদীর মতো দূষিত যমুনার জলেও এসেছে স্বচ্ছতা। লোকজনের আনাগোনা কমে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে জলকেলি করতে পারছে সরীসৃপের।

আর সুশান্ত নন্দার পোস্ট করা ওই ছবিটি যেন তার প্রমাণ। এর আগেও বহুবার এমন সুন্দর সুন্দর ঘটনার সাক্ষী হতে পেরেছে গৃহবন্দি জনতা। তবে সৌজন্যে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন।

ফাইল চিত্র৷

আর ফরেস্ট অফিসারের শেয়ার করা এমন মনোমুগ্ধকর ছবি দেখে বিষ্ময় প্রকাশ না করে আর থাকতে পারেননি নেটপাড়ার সদস্যরা। কেউ কেউ আবার এমন সুন্দর দৃশ্য চাক্ষুস করার পর কমেন্টের মাধ্যমে নিজেদের উৎসাহ উদ্দিপনা ব্যক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে বলা চলে লকডাউনের একঘেয়েমি দিনে মাঝেমধ্যে ফরেস্ট অফিসারের শেয়ার করা এমন সুন্দর ছবি গুলি দেখলে আপনার মন ভালো হতে বাধ্য।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.