সুমন মণ্ডল, তমলুক:  মাঝ রাতে আচমকাই অচল হয়ে যাওয়া টাকার ধাক্কায় রাজ্যের জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত দীঘা ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক সমস্যার মুখে হাজার হাজার পর্যটক। হোটেলের বিল মেটানো থেকে কেনাকাটা অথবা দু’বেলার খাওয়া দাওয়া সবেতেই চূড়ান্ত বিপর্যস্ত পর্যটকরা। যারা আগেই দীঘায় চলে এসেছিলেন তাঁরা দ্রুত ফিরতে চাইছেন বাড়িতে। আবার যারা এদিন সকালে দীঘায় এসেছেন তাঁদেরও ব্যাগপত্র গুছিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এই ঘটনায় যারপরনাই হতাশ পর্যটক থেকে হোটেল ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়া ভয়ানক বিপত্তির কারণ হবে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মত।

রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতির ফলে রাজ্যের জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত দীঘা ও পার্শ্ববর্তী শংকরপুর, মন্দারমণি, তাজপুর বর্তমানে রাজ্যের পাশাপাশি গোটা দেশের সমুদ্র পিপাসু মানুষদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে৷ একটা সময় ছিল যখন বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য দীঘায় পর্যটকের ভিড় লেগে থাকত। কড়া ঠাণ্ডায় এবং বর্ষার সময় এখানে ভিড় তেমন একটা দেখা যেত না। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে অনেকটাই। এখন বছরের সবকটা দিনই এই সৈকত নগরীতে নজরকাড়া ভিড় চোখে পড়ে।

ফলে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী যখন তাঁর ভাষণে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটকে সম্পূর্ণ অচল বলে ঘোষণা করে দিয়েছেন, তখন কিন্তু দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতোই দীঘা ও সংলগ্ন এলাকায় হাজার হাজার পর্যটক হোটেলে কাটাচ্ছিলেন। ওই রাতেই বহু পর্যটক কোনও কিছু না জেনেই রাতের ট্রেনে ও বাসে দীঘায় এসে হাজির হয়েছেন। আগাম সতর্কতা ছাড়াই টাকা বাতিল হয়ে যাওয়ায় রাতে অনেক পর্যটককে হোটেলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অনেকেই কোনও রকমে একটা রাত এখানে কাটিয়ে সকালের ট্রেনে বাড়ি ফিরেছেন। তবে যারা দিন কয়েক আগে থেকে দীঘায় রয়েছেন তাঁদের সব রকম সহযোগিতা করেছেন হোটেল কর্মীরা।

বড় নোটের টাকা বন্ধের জেরে বুধবার সকাল থেকেই দীঘার সব থেকে বড় আকর্ষণ অমরাবতী পার্ক, রোপোয়ে সহ সমস্ত জায়গায় লিখিত ভাবে নোটিশ ঝুলিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই এলাকায় বড় টাকা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে পকেটে টাকা নিয়েও একরাশ বিষাদ নিয়ে বাড়িমুখো হচ্ছেন পর্যটকরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নিত্যগোপাল দাসঅধিকারী জানান, বুধবার সকাল থেকে মাত্র ১৪০টাকার মতো জিনিস বিক্রি হয়েছে। ৫০০ ও ১০০০ টাকা নিলে তা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলেই পর্যটকদের ঘুরিয়ে দিয়েছেন এদিন। স্থানীয় সৈকত আবাস হোটেলের ম্যানেজার অঙ্গন পণ্ড যেমন জানিয়েছেন, তাঁর হোটেলে যারা আগে থেকেই ছিলেন তাঁদের যথাসম্ভব পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অন্যদিকে এই হোটেলের জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টে খাওয়ার জন্য বাইরে থেকে যারা বড় নোট হাতে এসেছিলেন বুধবার তাঁদের বিফল মনোরথে ফিরে যেতে হয়েছে।

তবে, অন্য এক হোটেল কর্মী দেবকুমার জানা যেমন জানিয়েছেন, তাঁদের হোটেলে কার্ড পাঞ্চ করার ব্যবস্থা রয়েছে বলে এখানে থেকে টুরিস্টদের পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে, অধিকাংশ হোটেল কর্মীদের মতে রান্নার সামগ্রী, মাছ, মাংস সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ধারে কিনতে হচ্ছে। তাই আগামী দিনে টাকার যোগান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হোটেলে আসা পর্যটকদের পরিষেবা ব্যহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।