বার্লিন: ট্রেন জার্নি করতে করতে সাবই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কতক্ষণে বাড়িতে পৌঁছবেন সেটাই ঘুরতে থাকে মাথার মধ্যে। কিন্তু, লিওনি মুলারের ক্ষেত্রে সেটা সত্যি নয়। কারণ ট্রেনটাই তাঁর কাছে ঘর-বাড়ি। হ্যাঁ, বাড়িওয়ালার ঝামেলা আর সামলাতে পারছিলেন না তিনি। muller
বাড়িওয়ালার সঙ্গে বচসা থেকেই সূত্রপাত। তারপরই এই জার্মান কলেজ ছাত্রী সিদ্ধান্ত নেন আর বাড়িতে থাকবেন না তিনি। বিশেষ সাবস্ক্রিপশন নেন যাতে গোটা দেশ বিনামূল্যে ট্রেনে চেপে ঘুরতে পারেন তিনি। এখন গোটা জীবনটাই প্রায় ট্রেনে কাটাচ্ছেন তিনি। ১৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ট্রেন ছোটার সময় লিখে ফেলেন নিজের কলেজের পেপার। স্নানও করে নেন ট্রেনের বাথরুমেই। তিনি বলেন, ”ট্রেনে থাকাকালীন আমার সত্যিই বাড়ির মত মনে হয়।  আমি নানা জায়গায় ঘুরতে পারি, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারি, ঠিক যেন সবসময়ই ছুটিতে আছি।” তিনি আরও বলেন, ”আমি পড়াশোনা, লেখালিখি করি, আর বাকি সময় জানাল দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখি।”  মুলারের সঙ্গে থাকে বই-খাতা, জামা-কাপড় সবকিছুই। ব্যাগপ্যাকে থাকে ট্যাব, ল্যাপটপ। আর খরচ? বাড়ি ভাড়া নেওয়ার থেকে সস্তাই পড়ে। তাঁর বাড়ি ভাড়া ছিল ৪৫০ ডলার, আর ট্রেনের সাবস্ক্রিপশন ৩৮০ ডলার। তবে মধ্যরাতে খুব বেশি ট্রেনে যাতায়াত করেন না মুলার। চেষ্টা করেন কোনও বন্ধু বা আত্মীয়ের বাড়িতে রাত কাটানোর।
মুলারের এই সিদ্ধান্তে খুশি অনেক বন্ধু-বান্ধবই। অনেকে আবার একটু বেশিই অ্যাডভেঞ্চারাস বলে মনে করেন। মুলার কিন্তু সবাইকে এই জীবন যাপনে উৎসাহিত করে। শুধু একটাই পরামর্শ, বাইরের আওয়াজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাতে একটু হেডসেট খুব জরুরী।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV