বার্লিন: হেডলাইনটা পড়েই ‘ইয়াক’ করলেন তো! এটাই সত্যি৷ পশ্চিম জার্মানের শহর আচেনে সুপারমার্কেটে দেদার বিকোচ্ছে ‘বাফেলো ওর্ম বার্গার’৷ চিরাচরিত খাবার থেকে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে জার্মানিরা৷ কেন? তা জানতে হলে পড়তে হবে পুরো রিপোর্ট টা৷

যদিও বেশ কিছু দেশে পোকা বা কীট ভাজা কিনে খান মানুষ৷ কারণ সেসব পোকা মাকড়ে থাকে অতি মাত্রায় প্রোটিন৷ এখানেও কারণটা একই৷ মহিষের কৃমি খুবই পুষ্টিকর৷ কারণ এতে আছে খুব বেশি মাত্রায় প্রোটিন৷ এই জন্যই নেদারল্যান্ডে অতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে কীট পতঙ্গ৷

এই কৃমিকে লেটুস পেঁয়াজ টমাটো দিয়ে যত্ন সহকারে রোলে বা বার্গার ব্রেড এর মাঝে দিয়ে পরিবেশন করা হয়৷ আজকাল আচেন সুপারমার্কেটে আসা লোকজন এই দোকানের সামনেই ভিড় বাড়াচ্ছেন বেশি৷ নেদারল্যান্ড ও বেলজিয়ামে সাফল্যের পরে আচেনের ওই সুপারমার্কেটের দোকানে সুন্দর মোড়কে মোড়া রোলে বা বার্গারে কামর বসাতে বেশ ভালই দেখা যাচ্ছে ‘ফুডি’ দের৷ খাদ্যরসিক শুধু বাঙালি নয় সারা বিশ্বেই আছে৷ আর সেই খাবার যদি হয় পুষ্টিকর তা খেতে অসুবিধা কোথায়? বলছেন কেউ কেউ৷

ম্যানফ্রেড রডার যাচ্ছিলেন ওই দোকানের সামনে দিয়েই৷ কিনে খেলেন একটা বার্গার৷ তারপর বললেন “আমি বিশ্বাস করি এটা মাংসের পরিবর্ত হিসেবে কাজ করবে৷ আমি প্রথমে একটা খেয়েছি৷ তারপর আরও একটা খেলাম৷ কারণ এটা সত্যিই অসাধারণ খেতে৷ খুব ভাল স্বাদ৷”

বরিস ওয়েজেল ওই বার্গার দোকানের মালিক৷ তাঁর এই রেস্তরাঁর নাম দিয়েছেন বাগফাউন্ডেশন৷ তিনি জানিয়েছেন তিনি চার বছর ধরে এই বিষয়টির উপর কাজ করেছেন৷ তাঁর সঙ্গে কো-ফাউন্ডার বা সহ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ছিলেন ম্যাক্স ক্রাইমার৷

দুজনে এই বুদ্ধি খুঁজে পান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেড়াতে যাওয়ার পর৷ যদিও পতঙ্গ খাওয়া কোনও নতুন বিষয় নয়৷ গরিব দেশ গুলি শরীরের পুষ্টি ধরে রাখতে কীট পতঙ্গ খাওয়া চালু করলেও সেই ধারণাকে নিজের করে নিয়েছে বহু দেশ৷ এছাড়া সাপ ব্যাঙ তো আখছাড়ই খায় মানুষ৷ আজকাল ‘ছাগলে কি না খায়’ এই প্রবাদটা না বলে বোধহয় ‘মানুষে কি না খায়’ বলাটাই ভাল৷ শুঁয়োপোকা, গঙ্গাফড়িং, মাকড়সা সবই খাওয়া হয় আজকাল৷

ওয়েজেল বলছেন “এটা খুব সহজ৷ যদি আপনি একটি পণ্য তৈরি করেন তবে সেটিকে দেখতে ভাল করতে হবে৷ জিনিসটা দেখতে যেন ভাল হয় এবং কোনও পোকা যেন নাদেখা যায়৷” ওয়েজেল আরও জানান, “মানুষ বার্গারের গন্ধেই আকর্ষিত হয়ে আসেন৷”

এমন খাবার ও তা কী দিয়ে তৈরি জানার পর সকলেই জিভের জল ফেলতে ফেলতে এগিয়ে আসছেন এমনটা অবশ্য নয়৷ তবে যেখানে এই বার্গার বিক্রি হচ্ছে সেই আচেন সুপারমার্কেটের ম্যানেজার বলছেন “আমরা এমন অনেক মানুষকে পেয়েছি যাঁরা এই বিষয়টি জানার পর ভীষণভাবে রোমাঞ্চিত হয়েছিলেন এবং এটার জন্য বহুদিন অপেক্ষা করেছেন৷”

তিনি আরও বলেন “আবার এরকম মানুষও পেয়েছি যাঁরা জিজ্ঞেস করছেন: আপনারা নিশ্চয়ই সিরিয়াসলি এটা করছেন না?!” সে যাই হোক তবে এটাতো সত্যি, দিন দিন এমন খাবারের চাহিদা বাড়ছে৷ তাইতো কবি বহুদিন আগেই লিখে গিয়েছেন “আরশোলা মুখে দিয়ে সুখে খায় চিনারা, কতকি যে খায় লোকে নাহি তার কিনারা৷”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ