স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জর্জ বেকার ও তসলিমা নাসরিনের সম্পর্ক কলকাতা ২৪x৭-এ প্রকাশের পরই নড়চড়ে বসল বিজেপি৷ দলীয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিষয়টি বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে দলের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে৷

জর্জ বেকারের সঙ্গেই নাকি সম্পর্ক ছিল তসলিমা নাসরিনের! এনাদের সন্তানই হচ্ছেন বর্ধমানের ভাতারের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে বেহালায়। অঙ্কিতাকে পালন করেছেন গৌরী ভট্টাচার্য নামের এক মহিলা যিনি আবার সম্পর্কে জর্জ বেকারের স্ত্রী অর্পিতা’র বোন।

পড়ুন আরও- #BigBreaking- বিজেপি সাংসদ-তসলিমা ‘অবৈধ’ সম্পর্ক ফাঁস করল মেয়ে

গৌরীদেবী’র মৃত্যু হয়েছে। তবে তার এই পালিত কন্যা বেকার-তসলিমা’র সম্পর্কের কথা আগেই জানতেন বলে জানা যায়। স্মৃতিচারণে’র সুবিধার্থে দিয়েছেন কয়েকটি ছবি।

অঙ্কিতার দাবি, জন্মের পরে বেশ কয়েক বছর জন্মদাতা বাবা-মা জর্জ বেকার এবং তসলিমা নাসরিনের সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন অঙ্কিতা। অভিযোগ, বাবার ও মেয়ের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি জর্জের বর্তমান স্ত্রী অপ্রিতা বেকার৷ তাঁর চাপেই অঙ্কিতাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন জর্জ৷ বন্ধ সব যোগাযোগ৷ প্রাণ নাশের হুমকি সত্ত্বেও নিজের প্রাপ্র আদায়ের লক্ষ্যেই গোটা বিষয়টি অঙ্কিতা প্রকাশ্যে এনেছেন বলে জানিয়েছেন৷

গোটা ঘটনার উপর নজর রেখেছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব৷ অঙ্কিতা ভট্টাচার্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলের এরাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা রিপোর্ট তৈরি করবেন৷ সেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে৷

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে হাওড়া থেকে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়েছিলেন জর্জ বেকার৷ পরবর্তীকালে লোকসভায় মনোনিত সাংসদ করা হয় তাঁকে৷ বর্তমানে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর৷ দলের ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করতে চায় বিজেপি৷

ইসলাম বিরোধী লেখার অভিযোগে নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত বাংলাদেশী লেখিকা তলসিমা নাসরিন৷ বর্তমানে দিল্লিতে থাকেন তিনি৷ মোদী সরকারই তাঁকে নিরাপদে থাকায় আশ্রয় করে দিয়েছে দেশের রাজধানীতে৷ ফলে অঙ্কিতা ভট্টাচার্যের অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তসলিমা সম্পর্কেও কোনও নেতিবাচক মনোভাব বা ক্রিটিকাল ভিউ নিতে রাজি নয় গেরুয়া শিবির৷

সবমিলিয়ে তাই লোকসভার আগে দলের ভাবমূর্তির কথা মাথায় রেখে সাংসদ জর্জ বেকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও তাঁর সত্যতা অনুসন্ধানেই এখন জোর দিচ্ছে বিজেপি৷