নয়াদিল্লি: অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এতই ধীরগতি যে তা গত ১১বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছলো। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই বৃদ্ধির হার ৪.২ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকাল অফিস (এন এস ও) এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এর মধ্যে আবার এই অর্থবর্ষে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ জিডিপি কমে দাঁড়িয়েছে ৩.১ শতাংশ। করোনা আটকাতে ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়েছিল অর্থাৎ এই লকডাউনের প্রথম সপ্তাহের প্রতিফলন এই ত্রৈমাসিকে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এটা হল গত ৪৪ টি ত্রৈমাসিকের সর্বনিম্ন বৃদ্ধি।

তবে বেশিরভাগ মূল্যায়ন সংস্থা এবং অর্থনীতিবীদ যা ভবিষ্যৎবাণী করা ২.২ শতাংশের চেয়ে এই অংকটা বেশি।

ফিচ ইন্ডিয়ার মুখ্য অর্থনীতিবীদ দেবেন্দ্র পন্থ জানিয়েছেন, কৃষি এবং সরকারি খরচ এখন রক্ষাকর্তা। দেখা গিয়েছে‌, খনি এবং কৃষি ক্ষেত্রে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ‌ বৃদ্ধি। এই দুটি ক্ষেত্রে ‌ বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৫.২ এবং ৫.৯ শতাংশ। সেখানে উৎপাদন ক্ষেত্রে বৃদ্ধির বদলে সংকোচন হয়েছে ১.৪ শতাংশ। জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য পরিষেবায় বৃদ্ধি হয়েছে ১০.১ শতাংশ।

বাজেটে ধরা হয়েছিল ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হবে ৮.৫ শতাংশ, যদিও এনএসও‌ এর আগে পর্যালোচনা করে তা কমিয়ে বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ ধরেছিল। কিন্তু শুক্রবার এনএসও ফের পর্যালোচনা করে বৃদ্ধি গোটা বছরের জন্য ৪.২ শতাংশ ধার্য করল। যেখানে এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি হয়েছিল ৬.১ শতাংশ।

আর্নেস্ট এন্ড ইয়ং এর মূখ্য নীতি পরামর্শদাতা তথা ১৫ শ অর্থ কমিশনের অন্যতম পরামর্শদাতা ডিকে শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন,সবচেয়ে প্রতিবন্ধকতার খবর হল, চাহিদা তিনটি দিক থেকেইই নেমে গিয়েছে- লগ্নি এবং রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক বৃদ্ধি অন্যদিকে খরচের ক্ষেত্রেও চাহিদায় লাগাম পড়েছে। পাশাপাশি তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিএজি দেওযা তথ্য থেকে কারণ ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে কর বাবদ আয় ৩.৪ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং আর্থিক ঘাটতি বেড়ে হতে পারে জিডিপির ৪.৬ শতাংশ যেখানে পর্যালোচনা করে ধরা হয়েছিল ৩.৮ শতাংশ।

শ্রীবাস্তবের বক্তব্য, এটা খেয়াল করতে হবে যে করোনা সংকটের এটা আগের দশা। ২০০৮ সালের আগে পাঁচ বছর ধরে জিডিপি বৃদ্ধি ৮ শতাংশ ধরে রাখা গিয়েছিল। সেই তুলনায় এখন দুর্বল অর্থনীতি এবং দুর্বলতর জন আর্থিক অবস্থা ও ক্ষমতা।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব