কলকাতা: অতিমানবিক ব্যাটিংয়ে চলতি মরশুমে দু’হাত ভরে আশ্বস্ত করেছেন নাইট সমর্থকদের। তাই অনুরাগীরা সংক্ষেপে তাঁকে ডাকছেন ‘দ্রে রাস’ নামে। দ্বাদশ আইপিএলে নাইট শিবিরে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন একাধিক বার। ধারাবাহিক ধুন্ধুমার ইনিংসে নাইট ব্যাটিং বর্তমানে সিংহভাগ নির্ভরশীল ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং ‘দৈত্য’ আন্দ্রে রাসেলের উপর।

শুক্রবারও আরসিবির পাহাড়প্রমাণ ২১৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা আরেকটু হলে তাড়া করে ফেলছিলেন। কাঁধের চোটেও অকুতোভয় দ্রে রাস এদিন ইডেনে খেললেন ২৫ বলে ৬৫ রানের ‘বিস্ফোরক’ ইনিংস। কেকেআর ১০ রানে ম্যাচ হারলেও নাইট সমর্থকদের কাছে ক্রমেই ‘অবিসংবাদী নায়ক’ হয়ে উঠেছেন রাসেল।

আরও পড়ুন: কাজে এল না রাসেল ‘ঝড়’, উত্তেজক ম্যাচে ১০ রানে হার নাইটদের

এখনও অবধি চলতি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ৩৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ক্যারিবিয়ান পিঞ্চ হিটার। বেশ কিছুটা পিছিয়ে দ্বিতীয়স্থানে থাকা স্বদেশীয় ক্রিস গেইল (২৬)। কিন্তু কেরিয়ারে রাসেলের এমন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ক্রিস্টোফার হেনরি গেইলেরই। বিবিসি’কে দেওয়া একটি সাক্ষাতকারে সম্প্রতি রাসেল জানান গেইলের একটা উপদেশ তাঁর কেরিয়ার পালটে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: দুঃস্বপ্নের ওভার শেষে মাঠেই কেঁদে ফেললেন কুলদীপ

এব্যাপারে বলতে গিয়ে ২০১৬ ভারতের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি২০ বিশ্বজয়ের প্রসঙ্গ টানেন দ্রে রাস। রাসেল জানান, প্রাথমিকভাবে তিনি হালকা ব্যাট নিয়ে মাঠে নামতেন। কিন্তু ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন গেইল এসে তাঁকে বলেন, ‘রাস তুমি যথেষ্ট শক্তিশালী। পাওয়ার হিটিংয়ের ক্ষেত্রে হালকা ব্যাটের পরিবর্তে ভারি ব্যাট তোমার জন্য অনেক সহায়ক হবে।’ বাকিটা ইতিহাস।

আরও পড়ুন: হোটেল ছাড়ার আগে কথা দিয়েছিলেন, মাঠে নেমে ‘বিরাট’ প্রতিশ্রুতি পূরণ কোহলির

২০১৬ ভারতের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপ জয় বদলে দিয়েছিল রাসেলের কেরিয়ার। গেইলের পরামর্শ মেনে সেমিফাইনালে ৪৩ বলে ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন রাসেল। চলতি মরশুমে শুরুটা ভালো করেও টানা চার ম্যাচ হারে লিগ টেবিলে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে তাঁর দল। তবু পার্পল জার্সি গায়ে তাঁর বিস্ফোরক ইনিংসে কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজির দেনা শোধ করছেন রাসেল। সাক্ষাতকারে এমনটাই জানান জামাইকান অল-রাউন্ডার।

কারণ হিসেবে ২০১৭ ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পরেও কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজির তাঁকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আইপিএলে এযাবৎ ৯ ম্যাচে ৩৭৭ রানের মালিক জানান, ‘সে সময় আমি খুবই হতাশ ছিলাম। কিন্তু ভেঙ্কি মাইসোর (কেকেআর সিইও) হঠাতই একদিন ফোন করে জানান তোমাকে আমরা পুনরায় দলে রাখছি। ওই ঘটনা আমার চোখে জল এনে দিয়েছিল।’