আমেদাবাদ: গুজরাতের রাজপিপলার রাজভার মানবেন্দ্র সিং গোহিলের উপর। কিন্তু তিনি নিজের রাজ পরিচয় ও ক্ষমতা ব্যবহার করেন সমকামীদের যৌন শিক্ষা দিতে। সমাজে সমকামীদের অধিকার নিয়েও শিক্ষা দেন গোহিল। কেন সমকামীদের নিয়ে চিন্তিত এই গোহিল? কারণ তিনি নিজেও সমকামী। ১০ বছর আগে ক্ষমতার আসনে বসার পরে নিজের সমকামিতার কথা নিজেই ঘোষণা করেছিলেন।

যে সমাজে সমকামিতা অপরাধ, সেই সমাজে সমকামিতা সম্পর্কে সচেতন করাই তাঁর মূল দায়িত্বও বলে মনে করেন গোহিল। গোহিলের কথায়, “লোকে বলে সমকামিতা পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল”। এই দেশেই কামসূত্র এবং প্রাচীন ভাস্কর্য্যে সমকামিতার ছবিই বারবার উঠে এসছে। গোহিল মনে করেন যে সমাজের মধ্যে দ্বিচারিতা থাকায়, এই সত্য মানা হয় না। তাই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “আমি সমকামী। তো? আমি এর জন্য গর্বিত”।

সমকামিতা নাকি এইডস্‌ ছড়াতে সাহায্য করে, এই ধরনের ধারণা ভাঙতেই সমকামীদের সচেতন করতে চান এই সমকামী রাজকুমার। সমকামীদের দমিয়ে রাকাহার জন্য সমাজে যা যা আইন আছে তাঁর বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়াই লক্ষ্য গোহিলের। তাঁর সংস্থা ‘লক্ষ্য’ সমকামী এবং ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়ে কাজ করে। যৌনতার সঙ্গে যেন সুরক্ষার কথাও তারা মাথায় রাখে এই ব্যাপারেই সচেতন করে চলেছেন তিনি। সমাজে সবসময় তাঁদের কুনজরে দেখা হয়, ফলে যৌনতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলে সেগুলি চাপাই থেকে যায়। গোহিল সেই প্রশ্নের উত্তরই এদের কাছে পৌঁছে দেন।

গোহিল জানান, যখন ‘লক্ষ্য’ তৈরি হয়, তখন পুলিশু তাঁদের হেনস্থা করতে ছাড়েনি। যৌনতা নিয়ে কথা বলা আজু সমাজে খারাপ ভাবেই দেখা হয়। তাই অসুরক্ষিত যৌনতা থামান যায় না। তাই গোহিল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, “আআমরা পাবলিক টয়লেটে, এবং গাছে কন্ডোমের প্যাকেট ঝুলিয়ে রাখবো। আমরা পাবলিক টয়েলেটের মধ্যে যৌনতা বা লুকিয়ে যৌনতায় লিপ্ত হওয়া থেকে মানুষকে বাধা দিতে চাই না। আমরা শুধু চাই তারা যেন যোউনতার সময় সুরক্ষা বজায় রাখেন”।

সমকামীরা বার বার সমাজের ভ্রুকুটির সম্মুখীন হয়েছে। পুলিশরাও তাঁদের যৌন হেনস্থা করে থাকে প্রায়ই। “আমাদের বহু সদস্যদের পুলিশ গ্রেফতার করে, জোর করে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করে”।

নিজে সমকামী হওয়ায় নিজের ক্ষমতাকে এই কাজেই লাগিয়েছেন রাজকুমার গোহিল। সমকামীদের দেখলে আজও তথাকথিত স্বাভাবিক মানুষ বাঁকা নজরে তাকায়। উপহাস করা জন্য তাদেরকেই বেছে নেওয়া হয়। এতটযাই দূরে ঠেলে দেওয়া হয় তাঁদের যে তারা যৌনতা সম্পর্কে কথা বলতে ভয় পায়। কিন্তু লুকিয়ে এই কাজে লিপ্ত হতে গিয়ে প্রায়ই শারীরিক অসুস্থতার শিকার হন। এদেরকে বাঁচাতেই এবং সচেতন করতেই ‘সমকামীদের রাজা’ হয়েছেন মানবেন্দ্র সিং গোহিল।