মুম্বই: বিশ্বকাপের পর থেকেই টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন ও ভাইস-ক্যাপ্টেনের মধ্যে বিরোধ প্রকট হয়েছে৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ঠিক আগে বিরাট-রোহিতের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল৷ ক্যারিবিয়ান সফরের বাইশ গজে এর প্রভাব না-পড়লেও এই দ্বন্দ্ব মেটার আশা দেখছেন না সুনীল গাভাসকর৷ শুধু তাই নয়, বিরাট-রোহিত দ্বন্দ্ব সানিকে মনে করিয়ে দিল তাঁর সঙ্গে কপিল দেবের সম্পর্কের কথা৷

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে সদ্যসমাপ্ত ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ছিটকে যাওয়ার পর ফাইনাল পর্যন্ত বিরাটরা লন্ডনে থেকে গেলেও দু’দিন আগেই দেশের ফিরেছিলেন রোহিত৷ তখন থেকেই বিরাট-রোহিতের সম্পর্কে তিক্ততা প্রকাশ্যে আসে৷ কিন্তু ক্যারিবিয়ান সফরের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে সাংবাদিক বৈঠকে রোহিতের সঙ্গে তাঁর তিক্ততার কথা অস্বীকার করেন ক্যাপ্টেন কোহলি৷

ভারত অধিনায়ক এ কথা অস্বীকার করলেও বিরাট-রোহিত দ্বন্দ্ব ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নষ্ট করছে বলে মনে করছেন প্রাক্তনরা৷ কোহলি–রোহিতের মধ্যে দ্বন্দ্ব ঠিক কি কারণে, তা নিয়ে‌ প্রকাশ্যে কেউ মুখ না-খুললেও সমস্যা যে রয়েছে তা জলের মতো পরিষ্কার। তবে ক্যাপ্টেন ও ভাইস-ক্যাপ্টেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও ক্যারিবিয়ান সফরে টি-২০ সিরিজে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশ করেছে টিম ইন্ডিয়া।

তবে বিরাট-রোহিতের দ্বন্দ্ব মনে করিয়ে দিয়েছে ওপেনার সুনীল গাভাসকরকে তাঁর ক্রিকেট জীবনের কথা৷ ছয় ও সাতের দশকে ভারতীয় দল ছিল অগোছালো। কিন্তু তার পর গাভাসকর ও কপিলের হাত ধরে জোয়ার আসে ভারতীয় ক্রিকেটে৷ আটের দশকে ভারতীয় ক্রিকেটে নবজাগরণ ঘটে। কপিলের হাত ধরে ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয় ভারতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রটাই বদলে দেয়। সে সময় ভারতীয় ক্রিকেটের দুই স্তম্ভ ছিলেন কপিল ও সুনীল৷ কিন্তু সে সময়ও কপিল-সুনীল দ্বন্দ্বে সাময়িক অন্ধকার নেমে এসেছিল ভারতীয় ক্রিকেটে। যদিও দু’‌জনের কেউই তা কোনওদিন স্বীকার করেননি। তখন সোশাল মিডিয়ার কোনও মাধ্যম না-থাকা তা প্রকাশ্যেও আসেনি।

এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে গাভাসকর জানিয়েছেন, ‘‌১৯৮৪–৮৫ সালে ভারত–ইংল্যান্ড সিরিজ। ডেভিড গাওয়ারের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইডেন টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছিল কপিল। দায়টা আমার ঘাড়ে এসে পড়েছিল। কিন্তু আসল সত্যিটা হল, কলকাতা টেস্টের দল থেকে কপিলকে বাদ দেওয়া, আমার সিদ্ধান্ত ছিল না। তখন নির্বাচক ছিলেন প্রয়াত হনুমন্ত সিং। তিনি এই কথা এক বছর পর জানিয়েছিলেন।’‌ এ প্রসঙ্গে সানি আরও বলেন, ‘‌কপিল ছিল ম্যাচ উইনার। আমি কি পাগল, যে কপিলের মতো‌ একজন ম্যাচ-উইনারকে বসিয়ে রেখে মাঠে নামব!‌’

বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটের দুই স্টারের দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে ‌গাভাসকর বলেন, ‘‌যারা এই কথা প্রকাশ্যে আনছে, তারা ভারতীয় ক্রিকেটের ভালো চায় না। হয়তো দলের কোনও ক্রিকেটার হতাশা থেকে এই দ্বন্দ্বের কথা তুলে এনেছে। কিন্তু এতে দলের ক্ষতি হচ্ছে।’ বোর্ডেরও কোনও কর্তার হাত এতে থাকতে পারে বলে মনে করেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক৷