শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : জলপাইগুড়ির একমাত্র অসংরক্ষিত আসন ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি । এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের প্রার্থী রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী ও এই বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক গৌতম দেব। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে গৌতম দেব ৮৪ হাজার ভোট পিছিয়ে ছিলেন ।

এবারের লড়াই তাই গৌতম দেবের কাছে কঠিন। কিন্তু গৌতম দেবকে তৃণমূল শিলিগুড়ি থেকে প্রার্থী হতে বলেছিলো। গৌতম দেব নিজে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য, “কঠিন কেন্দ্রটিই আমি লড়াইয়ের জন্য বেঁচে নিয়েছি।” তবে এই কেন্দ্রে এবারের গৌতম দেবের প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরই এক সময়ের সহযোদ্ধা শিখা চট্টোপাধ্যায়। শিখা চট্টোপাধ্যায় এবার ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি-র প্রার্থী।

শিখা চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায়ের হাত ধরো। ২০১৭ সালে তিনি বিজ্রেপি ছেড়েছেন। এই শিখা চট্টোপাধ্যায় ছিলেন গৌতম দেবের এক কথায় “ডান হাত”। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি জেলার ৭টি বিধানসভার ৬টিতেই তৃণমূল ও একটিতে কংগ্রেস ছিল।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে এই ৭টি বিধানসভার মধ্যে ৬টিতে বিজেপি এগিয়ে একটিতে এগিয়ে তৃণমূল। তাই হারিয়ে যাওয়া জমি ফিরে পেতে মরিয়া লড়াইয়ে নেমেছে তৃণমূল। আর বিজেপিও চাইছে লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ৬টি বিধানসভা তো বটেই, ৭টিতেই নিজেদের দখলদারি বজায় রাখতে।

ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় তাঁর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি মানতে চান না তাঁর প্রতিপক্ষ গৌতম দেব হেভিওয়েট প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য মানুষের প্রাণভরা সমর্থন পাচ্ছি । ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী দিলীপ সিং। তাঁর অভিযোগ তোলাবাজ তৃণমূল, সাম্প্রদায়িক বিজেপি নয়, সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীকে ভোট দিন। যদিও এর আগে দু’বার দিলীপ সিং নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

তবে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি হেভিওয়েট প্রার্থীর ভিড়ে ভোট হতে চলেছে আগামী ১৭ এপ্রিল। টানটান উত্তেজনা নিয়ে গৌতম দেব প্রচারে গিয়ে কোনও কোনও সময় মেজাজ হারাচ্ছেন। তাই সন্যাসীকে হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছেন গৌতমবাবু।

তবে এদিক থেকে অনেকটাই স্বস্তিতেই আছেন বিজেপি প্রার্থী ও গৌতম দেবের প্রাক্তন সহযোদ্ধা ও বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী শিখা চট্টোপাধ্যায়। কেননা ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ৮৪ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। গৌতম দেব পারবেন এই ব্যবধান ঘুচিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে জিততে? প্রশ্ন সেটাই ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.