ঢাকা-নয়াদিল্লিঃ  প্রাকৃতিক গ্যাস ভারতকে রফতানি করতে চলেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো এই গ্যাস রফতানি করবে বাংলাদেশ। শনিবার শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসে। সেখানেই তরল গ্যাস ভারতকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বৈঠকে একাধিক ইস্যু ছিল। যার মধ্যে অন্যতম তিস্তা চুক্তি।

যদিও তিস্তা চুক্তি সেই অর্থে এই বৈঠকে আলোচনা না হলেও ফেনী নদীর জল ভারতকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাংলাদেশ ভারতে তাদের প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করতে সম্মত হয়েছে। এলপিজি রফতানি জন্য একটি প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেছেন ভারত এবং বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশ থেকে বুলেট ট্রাকে চাপিয়ে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে আসা হবে ত্রিপুরার বিশালগড় বটলিং প্ল্যান্টে, তারপর তা সরবরাহ করা হবে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন স্থানে। তাতে এলপিজি সিলিন্ডার অনেক কম পরিবহন-খরচে আর কম সময়ে পৌঁছে দেওয়া যাবে ভারতের সমস্ত দুর্গম এলাকায়। প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে পানীয় জল জোগাতে ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক জল সরবরাহে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ।

ফেনী-সহ সাতটি অভিন্ন নদীর জল ভাগাভাগির জন্যে একটি কাঠা প্রস্তুত করতেও যৌথ নদী কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এই সাতটি নদীর মধ্যে তিস্তা নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, “শেখ হাসিনার সঙ্গে আজকের এই এলপিজি-আমদানিসহ এই নিয়ে গত এক বছরে আমি অন্তত ডজনখানেক প্রকল্পের উদ্বোধন করলাম। যার সবগুলোরই লক্ষ্য এক – আমাদের নাগরিকদের জীবনের মানে উন্নতি ঘটানো। আর এটাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূলমন্ত্র।”

যে সাতটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি দিল্লিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে তার মধ্যে প্রথমটিই ছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা পদ্ধতি ঠিক কী হবে, তা নিয়ে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ভারত কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবহারযোগ্য ভারতের কোনও বন্দর সেই তালিকায় ছিল না।