নয়াদিল্লি: প্রতিটা মুহূর্তে তাঁরা যুদ্ধের জন্য তৈরি। দেশকে সুরক্ষা দিতে প্রাণের মায়া ত্যাগ করেই কাজ করে যান তাঁরা। সেইসব জওয়ানেরা শহিদ হলে স্যালুট জানায় গোটা দেশ। জীবন পন করে তাঁর যে লড়াই, তার প্রতি শ্রদ্ধা বলতে ওইটুকুই। কিন্তু তাঁর পরিবারের কাছে তিনি শুধু জওয়ান নন, বাবা, ভাই কিংবা স্বামীও বটে। স্মৃতি নিয়ে তাঁদের বেঁচে থাকার গল্পন শোনা যায় অনেক সময়।

কিন্তু শুধু সেই যন্ত্রণার গল্প নিয়েই বেঁচে থাকতে রাজি নন গরিমা আবরোল। স্বামীর জীবনটা আসলে কতটা জঠিন ছিল, সেটা জানতেই তিনি শুরু করেছেন অন্য এক লড়াই। বায়ুসেনায় যোগ দিতে চলেছেন স্কোয়াড্রন লিডার সমীর আবরলের স্ত্রী গরিমা আবরোল।

চলতি বছরের গোড়ার দিকেই বেঙ্গালুরুতে একটি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান ওড়ার পর বিমানটি ভেঙে পড়ে। সমীর আবরোল সহ দু’জনের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তেলঙ্গানার ডুন্ডিগাল ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে যোগ দেবেন গরিমা।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল অনিল চোপড়া ট্যুইটারে এমনটাই ঘোষণা করেছেন। তিনি শ্রীমতি আবরোলকে “ব্যতিক্রমী নারী” বলে উল্লেখ করে ওই দম্পতির একটি ছবি ট্যুইট করেন। তিনি লিখেছেন, “সশস্ত্র বাহিনীর সেনাদের স্ত্রীদের মতো সব মহিলা যদিও সমান হন না”, একথাও ট্যুইটে লিখতে দেখা যায় তাঁকে।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মিরাজ ২০০০ সামরিক বিমানটি উড়ান দেওয়ার সময়েই ভেঙে পড়লে মৃত্যু হয় দুই স্কোয়াড্রন লিডার সমীর আবরল এবং সিদ্ধার্থ নেগীর। ওই দিন সকাল ১০টা নাগাদ ফ্রান্সের নকশা করা ওই বিমানটি একপাশে কাত হয়ে গিয়ে একটি দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে বলে জানা যায়।

হিন্দুস্তান এ্যারোনটিক্স লিমিটেডের একজন পাইলট জানান, বিমানটির রাইডারের কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য একটি বিমানের সঙ্গে সেটি চালানো হচ্ছিল। সেইসময়েই ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

যে মিরজ ২০০০ যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ে সেটি এর আগেও ৬বার সফলভাবে পরীক্ষামূলক উড়ান দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১ ফেব্রুয়ারি ভেঙে পড়ে সেটি।