ফাইল ছবি

কলকাতা: খুন হয়ে যাওয়া বৃদ্ধার নাতনি ডিম্পলের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পরীক্ষা করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ সৌরভ আর ডিম্পলের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন থেকে স্পষ্ট , তাদের মধ্যে একটি ‘বিশেষ’ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে খুনে সৌরভকে যেভাবে সহযোগিতা করেছে ডিম্পলের মেয়ে কণিকা ওরফে গুড়িয়া৷ তাতে সৌরভের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ক নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন৷

লালবাজার সূত্রে খবর,বুধবার রাত ১০টা নাগাদ খাবার পৌঁছে দিতে ঊর্মিলা দেবীর ফ্ল্যাটে গিয়েছিল তাঁর নাতনি কণিকা ওরফে গুড়িয়া৷ গুড়িয়া ঊর্মিলা দেবীর বড় ছেলে মনদীপের মেয়ে৷ বয়স ১৮। মনদীপ জন্ডিসে মারা গেছেন ২০১৪ সালে। দুই মেয়েকে নিয়ে কাছেই রিচি রোডের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন পুত্রবধূ ডিম্পল।
কণিকা জানায়, খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরেই সে ১০.৩০ নাগাদ বেরিয়ে এসেছিল ফ্ল্যাট থেকে। আর ঊর্মিলা দেবীকে খুন করা হয়েছিল রাত ১২.৩০-১টার মধ্যে।

ঘটনার পর ওই অঞ্চলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেন তদন্তকারী অফিসারেরা। ফুটেজে একজন যুবককে দেখা যায় গড়চা ফার্স্ট লেনের সেই ফ্ল্যাটের দিকে যেতে। তার পিছনেই দেখা যায় গুড়িয়াকেও। শুরু হয় প্রযুক্তি প্রহরা। ডিম্পলের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পরীক্ষা করতেই ওই যুবকের পরিচয় সামনে চলে আসে।কয়েক মাস আগে পাঞ্জাবের ২২ বছরের যুবক সৌরভের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ৩৫ বছরের ডিম্পল। ঘটনার দিন সৌরভ এসে উঠেওছিল রিচি রোডে ডিম্পলদের ফ্ল্যাটে।

সৌরভ পুরী, পাঞ্জাবের বাসিন্দা। সৌরভ আর ডিম্পলের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, তাদের মধ্যে একটি ‘বিশেষ’ সম্পর্ক রয়েছে। সৌরভের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করতেই স্পষ্ট হয়, খুনের রাতে রিচি রোডেই ছিল সে। সেই রাতে তাকে বারবার ফোনও করেছিলেন ডিম্পল। ফোনের টাওয়ার লোকেশন, কল রেকর্ড আর সিসিটিভির ফুটেজ দেখার পর অঙ্ক মেলাতে আর অসুবিধে হয়নি তদন্তকারী অফিসারদের।

গত বুধবার রাতে গড়িয়াহাটের গরচা রোডে বৃদ্ধাকে খুন করে আদালা করা হয়েছিল ধড়-মাথা৷ তদন্তে নেমেই ২৪ ঘন্টার মধ্যেই খুনের রহস্যের কিনারা করে কলকাতা পুলিশ৷ গ্রেফতার করা হয় বৃদ্ধার নাতনি ও পুত্রবধুকে৷ পঞ্জাব থেকে গ্রেফতার করা পুত্রবধু প্রেমিক সৌরভ পুরিকে৷ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে আসে আরও হাড়হিম করা তথ্য৷

ঘটনার রাতে গুড়িয়া তার ঠাকুরমার মুখে বালিশ চেপে ধরে আর সৌরভ ঊর্মিলাদেবী কোপাতে থাকে৷ সেই সময়, গুড়িয়া পাশে কাকার ঘরে চলে যায়৷ নৃশংসভাবে কোপানোর পর বৃদ্ধার ধড় থেকে মাথা আলাদা করে সৌরভ৷ খুনের পরে সৌরভ ও গুড়িয়া দু’জনেই বাড়ি ফিরে যায়৷ পরের দিন ভোরে হাজরা থেকে ট্যাক্সি নিয়ে বিমানবন্দরে যায় সৌরভ৷ টিকিট কেটে উড়ে যায় দিল্লিতে৷ সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ৷

রোষের কারণ সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ। মনদীপ জীবিত থাকাকালীন ব্যবসা থেকে হওয়া আয় সমান ভাগে ভাগ হত মনদীপ আর বলরাজের মধ্যে। কিন্তু মনদীপের মৃত্যুর পর ঊর্মিলা সেই নিয়ম বদলে দেন। ব্যবসা থেকে হওয়া আয় সমবণ্টনের পরিবর্তে ডিম্পলকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মাসোহারা দিতেন ঊর্মিলা। তাতে মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি ডিম্পল। শুরু হয় বিবাদ।

এদিকে রিচি রোডের যে ফ্ল্যাটে দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন ডিম্পল, সেই ফ্ল্যাট ছিল মনদীপ আর বলরাজের নামে। ডিম্পল চেয়েছিলেন, তার দুই মেয়ের নামে যেন সেই ফ্ল্যাটটি লিখে দেওয়া হয়। ঊর্মিলা তাতেও রাজি হননি। এছাড়া, মনদীপের সঙ্গে ডিম্পলের একটি জয়েন্ট লকারে বেশ কিছু সোনার গয়না ছিল। সেই লকারেও ডিম্পলকে হাত দিতে দিতেন না ঊর্মিলা। সবটা মিলিয়েই তীব্র রোষ জমা হচ্ছিল ডিম্পল ও তার মেয়ে গুড়িয়ার মনে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা