নয়াদিল্লি: ছয় মাস হতে চলল গোটা দুনিয়া লড়ছে মারণ এক অদৃশ্য ব্যাধির সঙ্গে। কীভাবে বশে আনা যাবে করোনাকে তার চেষ্টায় কোনও কসুর করছেন না বিজ্ঞানীরা। দিনরাত এক করে চলছে আলোচনা গবেষণা তবুও সেভাবে কোনও আশার আলো দেখা যায়নি এখনও পর্যন্ত। কোন দেশ আগে বের করবে করোনার প্রতিষেধক তা নিয়েও চলছে জোর লড়াই। আর এতসবের মাঝে নিত্যনতুন রুপ বদলে ফিরে আসছে করোনাভাইরাস।

করোনার টিকা বাজারে আসার আগের সময় পর্যন্ত এই ব্যাধির দাপট থেকে নিজেকে কীভাবে মুক্ত রাখবেন তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা। করোনামুক্ত থাকার নানা উপায় বাতলাচ্ছেন চিকিৎসক থেকে বিজ্ঞানী সকলেই। যেহেতু নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনার সংক্রমণ। ফলে এবার নিজেকে করোনামুক্ত রাখতে মাউথ ওয়াশ বা গার্গেল করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, কথা বলার সময় আমাদের মুখ থেকে যে বায়ু বা,বাতাস নির্গত হয় তার মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনার জীবাণু।

জার্মানির রুহর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, কোভিড -১৯ সংক্রমণের শিকার এমন বেশকিছু রোগীর মুখগহ্বর এবং গলাতে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গিয়েছে।

এই বিষয়ে তাঁরা আরও বলেছেন যে, “করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে সংক্রামিত ব্যক্তিদের শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার সময় সরাসরি হাঁচি, কাশি অথবা কথা বলার সময় যে বাতাস নির্গত হয় তা সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে। যারফলে আরও একজন সুস্থ মানুষ করোনা আক্রান্ত হন।”

যার ফলে গবেষকরা মনে করছেন, নিয়মিত মাউথওয়াশ দিয়ে গার্গেল করলে মুখগহ্বরে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। এছাড়াও মুখের লালারসে করোনা সহ যেকোনও ধরণের জীবাণুকে পরিস্কার করতে সহায়তা করে এই মাউথওয়াশ। সুতরাং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সতর্কতা বিধি মেনে চলার সঙ্গে সঙ্গে দিনে অন্তত দুবার এই মাউথওয়াশ দিয়ে মুখের ভিতরের অংশ তথা দাঁত, চোয়াল, জিভ এবং ঠোঁট পরিস্কার করলে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই এড়ানো যাবে।

শুধু তাই নয়, করোনা ঠেকাতে এই মাউথওয়াশ কতটা উপকারী তা প্রমাণ করতে রুহর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা অনেক মানুষের উপর এটি প্রয়োগ করে দেখেছেন এবং এর ক্লিনিক্যালি ট্রায়ালও দেওয়া হয়েছে। এরপরই বিশেষজ্ঞরা অন্তত ৩০ সেকেন্ড ধরে মাউথওয়াশ দিয়ে গার্গেল করার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিজ্ঞানীদের আরও দাবি, মাউথওয়াশে থাকা রাসায়নিক উপাদান করোনাভাইরাসের এই লিপিড মেমব্রেনকে নষ্ট করে দিতে সক্ষম। ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

তাঁরা জানান, বিশেষত ক্লোরহ্যাক্সিডিন মাউথওয়াশে থাকা উপাদান পোভিডোন-আয়োডিন, ইথানল এবং সেটিলপাইরিডিনিয়ামের মতো উপাদানগুলো লালারসের সঙ্গে মিশে থাকা ভাইরাসের কণা ও তার লিপিড মেমব্রেনকে নষ্ট করে দিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

যার ফলে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি মাউথওয়াশের ব্যবহার করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও