সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : কোনও ঘোষিত কর্মসূচি ছারাই, হঠাৎই তরাই-ডুয়ার্সের সমস্ত চা বাগান বনধ ডাকল সিটু-আইএনটিইউসি সহ ২৪ শ্রমিক সংগঠনের মিলিত জয়েন্ট ফোরাম। কিন্তু, হঠাৎ বাগান বনধে চা শ্রমিকদের কোনও সাড়া নেই বলে খবর৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে থাকাকালীন তৃণমূলের মাদারিহাটের জনসভা বানচাল করতে এই জয়েন্ট ফোরামের চক্রান্ত বলেই মনে করেছে শাসকদল। যদিও, এদিন ব্যর্থতায় ভরা আন্দোলন ঘরে ফিরতে হল জয়েন্টের নেতাদের। এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘চা বাগানের মানুষেরা নিরীহ। তাঁদের ভুল বোঝাচ্ছে বিরোধী শিবির। তবে, জয়েন্ট ফোরাম এদিন যেটা করল তাতে আদতে তাঁদের ক্ষতি হল। যদি কেই সভা করতে আসেন, তাহলে সেটিকে বানচাল করতে বনধের পথে হাঁটার পথটা তাঁরাই দেখাল।’’ নাম করেই মাদারিহাটে সম্প্রতি হতে চলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যদি একই বনধের চিত্র ধরা পড়ে, তাহলে তার দায়ও কংগ্রেস-সিপিএমের ঘাড়েই পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিন তিনি বলেন,‘‘গণতান্ত্রিক দেশে সবাই সভা করতে পারে, এতে বাধা বা বানচালের চেষ্টা একটা জঘন্য চক্রান্ত। জয়েন্ট ফোরাম বা সিপিএম-কংগ্রেস জোট যতই চেষ্টা করুক না কেন, ডুয়ার্সের প্রতিটি বাগানেই স্বাভাবিকভাবে পাতা তোলার কাজ চলছে। শ্রমিকরা নিরীহ৷ তাঁরা নিজেদের জন্যে সরকারের দেওয়া নানা প্রকল্প ভুলতে পারে নি।’’ তাই এদিন শ্রমিকরা বন্ধে সামিল না হয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন৷
প্রসঙ্গত, এদিন সকাল থেকে ডুয়ার্সের তোতাপাড়া, গয়েরকাটা, মাদারিহাটের মাকরাপাড়া সহ প্রায় প্রতিটি চা বাগানেই শ্রমিকদের পাতা তোলার চিত্র ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। অপরদিকে, জয়েন্ট ফোরামের নেতা মনিকুমার দার্নাল বলেন, ‘‘শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, রেশন ব্যবস্থা, ন্যায্য পাওনা সবকিছু স্বাভাবিকভাবে করার জন্যেই তরাই ডুয়ার্সের সমস্ত চা বাগানে এদিন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়ছে৷’’ এদিকে, জয়েন্ট ফোরাম বারবার বনধ সার্থক বলে দাবি করলেও ডুয়ার্সের চা বাগানের শ্রমিকদের কাজ করার চিত্র কিন্তু, ঠিক তার উল্টো কথাই বলছে।