লখনউ: একজন গর্ভবতী মহিলার কি খাওয়া উচিত, কি পড়া উচিত, কোন গান শোনা উচিত, কোন যোগা করলে তিনি সুস্থ থাকবেন, এসবই এবার সেখানে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠে। শুধু এসবই না থাকবে গর্ভবতী মহিলা সংক্রান্ত আরও অনেক তথ্য।

চলতি বছরেই এই কোর্স শুরু হচ্ছে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানকারই ইনস্টিটিউট অফ ‘ওমেন স্টাডিস’ এ পড়ানো হবে গর্ভ সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়। সার্টিফিকেট দেওয়া হবে ডিপ্লোমা কোর্সে।

কিছুদিন আগে গুজরাতের গভর্নর আনন্দিবেন পটেল বলেছেন যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের মা হবার পাঠ সঠিকভাবে দেওয়া হয়। তিনি নিজে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। এরপর ইউনিভার্সিটি এই কোর্স করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম গর্ভ সংস্কার সংক্রান্ত পড়াশোনা চালু করল।

শুধুমাত্র মহিলারা নয় চাইলে পুরুষেরাও এই কোর্স করতে পারেন।

আনন্দিবেন পটেল এই সংক্রান্ত বিষয়ে বলতে গিয়ে মহাভারতের অভিমন্যুর উদাহরণ দিয়েছেন। বলেছেন তিনি মায়ের গর্ভে থাকতেই যুদ্ধের কৌশল শিখেছিলেন। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয় এই সংক্রান্ত কোর্স রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গতবছর লখনউ ইউনিভার্সিটির কনভোকেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আনন্দিবেন পটেল বলেন, ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের গর্ভাবস্থা সংক্রান্ত কোন সঠিক পাঠ দেওয়া হয় না। অথচ জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংক্রান্ত পড়াশোনা করানো হয় । তারা বিশ্বাস করেন যে একজন শিশু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন এই অনেক কিছু শিখতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা এই কোর্স কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছেন। সেখানে একজন গর্ভবতী হওয়া থেকে শুরু করে সন্তানের জন্ম দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ে সঠিক তথ্য পাবেন।

গর্ভাবস্থায় কোন গান শোনা উচিত, সেই সংক্রান্ত পাঠ দেওয়ার জন্য লখনউ ইউনিভার্সিটি ‘মিউজিক ইনস্টিটিউট ইউনিভার্সিটি’র সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এছাড়া কোন খাবার খাওয়া উচিত , কোন যোগা করলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এসব রয়েছে ওই কোর্সের মধ্যে। একইসঙ্গে কনসালটেন্সি সার্ভিসেস দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপিকা রূপরেখা বলেন, এই পাঠ দিয়ে আসলে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে মেয়েদের আসলে মাতৃত্ব ছাড়া আর কোনো সামাজিক দায়িত্ব থাকার কথা নয়। এতে লিঙ্গবৈষম্যের বিষয়টি উঠে আসে বলে মনে করছেন তিনি।