নিউ ইয়র্ক: চিন, ভারত এবং রাশিয়ার মত দেশ আসলে কিছুই করছে না। ভারী শিল্পে চিমনির কালো ধোঁয়া এবং বর্জ্য পদার্থ যা সমুদ্রে ফেলা হয় সবই লস এঞ্জেলসে এসে ভেসে উঠছে। এমনটাই বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে ‘জটিল বিষয়ে’র তকমা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, অনেক দিক থেকেই নিজেকে পরিবেশবিদ বলে মনে হয়। তাই আমি ভীষণভাবে জলবায়ু বিষয়টির মধ্যে আছি। কিন্তু আমি পৃথিবীর সবচেয়ে পরিষ্কার জল এবং হাওয়া পেতে চাই।” মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক ইকোনমিক ক্লাবে এমন বক্তব্যই রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

জনসাধারণের উদ্দেশে এদিন ট্রাম্প জানিয়েছন, “আমেরিকা ‘ভয়ঙ্কর’, অর্থনৈতিকভাবে অন্যায্য চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে, যা ব্যাবসার গতিকে শ্লথ করে দিচ্ছে। প্যারিস ক্লাইমেট অ্যকড়ড আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিয়েছে পাশাপাশি বিদেশি দূষণকারিদের আশ্রয় করে দিয়েছে।” তিনি সরাসরি বলেন, প্যারিস ক্লাইমেট চুক্তি একটি ‘দুর্যোগে’র মত ছিল আমেরিকার কাছে। কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে ট্রিলিয়ন এন্ড ট্রিলিয়ন ডলার ব্যবসা হতে পারত যার ফলেই আমেরিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

কিছুটা হেসে তিনি বলেন, “এটা ঠিক নয়। ২০৩০ অবধি চিন নিশ্চিন্ত। রাশিয়া ১৯৯০ সালে ফিরে যাবে যা বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা সাল হিসেবে উঠে এসেছিল। ভারতকে কোথায় আমরা টাকা দেব যেহেতু তারা উন্নতিশীল দেশ। তবে এখন আমি বলছি আমরাও এখন উন্নতিশীল।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, সোজা কথায় অবিশ্বাস নাস্তিকতায় পরিণত হয়েছে। একদা তিনি দাবি করেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি পুরোটাই ভুয়ো যা চিনাদের তৈরি। এই বিশ্বাসের জেরেই ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস ক্লাইমেট অ্যাকর্ড থেকে সরিয়ে রাখেন, যার ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর জন্য বিশ্বের অনেক যৌথ প্রচেষ্টা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়।

যেই সময় ক্লাইমেট চেঞ্জ সেশন চলছিল সেইসময় তিনি ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। এরপরই মোদীর সঙ্গে হাতে হাত রেখে মসকরায় বেশ খোশমেজাজেই ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, এটাই আমার আগামি পরিকল্পনা। আমি নির্মল বাতাস ও জল চাই। কিন্তু তিনি তা কখনই প্রকাশ্যে আনেন না।