কলকাতা: একে তো করোনা আতঙ্ক,তার উপর পাড়ার পরিত্যক্ত বাড়িতে জমে আছে নোংরা আবর্জনা৷ যা একটি ভ্যাটে পরিণত হয়েছে৷ ফলে দুর্গন্ধে থাকা দায়৷ এ যেন এখন ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’৷ এমনই অবস্থা বিধাননগর পুরসভার রাজেন্দ্রপল্লী এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের৷ বাড়ির মালিক থেকে শুরু করে স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিধাননগর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে এই এলাকা৷ এই ওয়ার্ডের হেলাবটতলার রাজেন্দ্রপল্লী এলাকা৷ এখানে একটি মাছের বাজার রয়েছে৷ তার ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি৷ সেটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা৷ ওই বাড়িটিই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

অভিযোগ, মাছ বাজারের নোংরা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির ঘেরা ফাঁকা জায়গায়৷ এছাড়া রাস্তার পাশে ওই বাড়িটি হওয়ায়,রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছু মানুষও ওই ঘেরা জায়গায় জঞ্জাল ফেলে যাচ্ছে। বারবার বলা সত্ত্বেও কে কার কথা শোনে! যা থেকে মশা–‌মাছির উপদ্রব ক্রমশ বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয় মানুষজনের। শুধু তাই নয়, তা থেকে রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷

পাড়ার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই৷ যদিও এই বিষয় মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি৷ স্থানীয় কাউন্সিলরকে এই বিষয় প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানালেন, পরিত্যক্ত বাড়ির মালিককে বহুবার বলা হয়েছে ওই জায়গার নোংরা পরিষ্কার করার জন্য৷ কিন্তু সে তাতে কোনও কর্ণপাত করছে না৷ তাকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে পুরসভা সহযোগিতা করবে৷ সে কথাও বাড়ির মালিক শোনেনি, এমনকি পুরসভা নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার করতে চাইলেও,তাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে৷ তবে লকডাউন উঠে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হবে৷ এবং প্রশাসনকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হবে৷

যদিও এই বিষয় পরিত্যক্ত বাড়ির মালিকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷ সংক্রমণ ছড়ানোর দায়ে পুর আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়৷ শুধু পরিত্যক্ত জমিই নয়, এলাকায় তালা বন্ধ কোনও জমিতে জঞ্জাল জমে থাকলে, তালা ভেঙে তা পরিষ্কার করতে পারে পুরসভা৷ অন্যদিকে দমদমেও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে একটি ফাঁকা জমি৷ পাঁচিল ঘেরা ওই জমি এখন যেন মশার আঁতুড়ঘর৷ পরিত্যক্ত ওই জমির জমা জল ও জঞ্জালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়৷

এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের৷ অভিযোগ, দমদম পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে৷ এখানকার একটি পরিত্যক্ত জমিতে জমা জল ও জঞ্জাল রয়েছে৷ ওই ওয়ার্ডের ১৪ নম্বর অরবিন্দ সরণির আমবাগান খেলার মাঠের কাছেই রয়েছে একটি পরিত্যক্ত জমি৷ সেখানে জমা জল ও জঞ্জালের পাশাপাশি বাইরে থেকে ফেলা হচ্ছে নোংরা আবর্জনা ও প্লাস্টিক৷ বলা যায়, পরিত্যক্ত জমিটি জঞ্জাল ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে।