সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : সাগরের ডুব হয়ে গিয়েছে। পূণ্য অর্জন? তা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সাগরের ‘হাওয়া’র প্রভাব এখনও কাটেনি। তবে এ হাওয়া ঠাণ্ডা নয় , গরম। গরম হাওয়ায় আগুন দাম মাছের বাজারে। অন্তত পঞ্চাশ টাকা বেড়ে গিয়েছে বেশ কয়েকটি মাছের দাম। কবে দাম কমবে টা এখনই বলতে পারছেন না ব্যাবসায়িরা।

এমনিতেই সংক্রান্তির সময়ে মাছের দাম একটু বৃদ্ধি পায়। এটা ফি বছরের বিষয়। কিন্তু সংক্রান্তি দু দিন পরেও সেই প্রভাব থাকে না। মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি এমনটাই। তবে এই বছর সেই প্রভাব পড়েছে। কেমন প্রভাব? অনেকটা করে দাম বেড়ে গিয়েছে ভেটকি, পার্শে, পাবদার। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে গিয়েছে বড় মাছের দামও।

কদমতলা মাছ ব্যবসায়ী খোকন দাস বলেন, “সংক্রান্তির সময় বাড়িতে মাছ ঢোকে না। ওই সময়টায় দিন চার পাঁচেক কেনাকাটি থাকে না। ফলে একটু বেশি দাম থাকে। কিছু লাভ রাখতে গেলে একটু দাম বাড়াতেই হয়। কিন্তু এবারে সংক্রান্তির পরেও সমস্যা থেকে গিয়েছে। টাটকা মাছ দিতে পারছি না। মাছে এলে তবে তো দেবো।”

মানিকতলা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মন্টু পাল বলেন, “সাগরে সেই যে গাড়ি গিয়েছে সে এখনও ওখানেই অনেক গাড়ি পড়ে রয়েছে। ফলে মাছ কম আসছে। লোক চাইছে দিতে পারছি না। সোজা কথায় চাহিদা আছে কিন্তু যোগান দিতে পারছি না। তাই সব মাছেরই দাম বেড়ে গিয়েছে।” যেমন রুই কাটা ২০০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। কাতলা কাটা কিনতে গেলে খসাতে হবে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। বাটা বা চারা মাছের যোগানে সমস্যা নেই কারণ এইসব মাছ পুকুরেই পাওয়া যায়।

গঙ্গাসাগরের আগে ভেটকি ৪৫০ টাকা সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছিল এখন সেটা ৫০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। ভালো পার্শে মাছ কিনতে গেলে কিলো প্রতি দিতে হচ্ছে ৩০০ টাকা। পাবদা এমনিতেই সবসময় পাওয়া যায় না। এখন আরও দাম বেড়েছে। দাম শুনলে আঁতকে যেতে পারেন। ৬০০ টাকার নীচে পাবদা দিতেই পারবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু দাম কমবে কবে? ব্যবসায়ীরা সাফ জানাচ্ছেন এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। গাড়ির আসার পরিমাণ যত বাড়বে বা যেদিন থেকে স্বাভাবিক হবে সেদিন থেকে আবার দাম স্বাভাবিক হবে। না হলে ততদিন চড়া দামেই মাছ কিনতে হবে।