কলকাতা: ভারতের স্বাধীনতা মিলেছিল বাঙালির দেশভাগের যন্ত্রণার বিনিময়ে৷ অর্থাৎ দেশের অনেকাংশ মানুষ যখন শুধুই স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করছে তখন বাঙালির কাছে তা বিস্বাদ হয়ে ওঠে দেশের সীমারেখা টানা লাইনটির জন্য৷

তবে স্বাধীনতার মূহূর্তে দেশের আর পাঁচজন নেতার মতো সেদিন দিল্লিতে উৎসবে মাতেননি মহাত্মা গান্ধী৷ বরং ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ক্ষমতা হস্তান্তরের মুহূর্তে গান্ধীজি একাকি রইলেন দিল্লি থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে এই কলকাতাতেই ৷ জাতির জনকের তখন কয়েকদিনের ঠিকানা হয়ে উঠেছিল বেলেঘাটার গান্ধীভবন৷ স্বাধীনতার ঠিক আগে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের আগুনে তখন জ্বলছিল নোয়াখালি, কলকাতা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার দু-দিন আগে পর্যন্ত তিনি ছিলেন সোদপুরের খাদি আশ্রম-এ। গান্ধীজি বেলেঘাটায় দাঙ্গাক্রান্ত এলাকা পায়ে হেঁটে ঘুরলেন ৷ তখন দুই ধর্মের মানুষই তাঁর কাছে নিরাপত্তা চায়। পরিস্থিতি বিচার করে তিনি তখন ঠিক করলেন বেলেঘাটায় থাকবেন৷ ১৩ অগস্ট বেলেঘাটার বাড়িতেই এলেন তিনি।

১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হল আর রাত বারোটার পর ১৫ অগস্ট স্বাধীন হল ভারত। মধ্যরাতে জন্ম হল স্বাধীন ভারতের৷ দিল্লিতে উড়ল ভারতের জাতীয় পতাকা৷ প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু সহ আরও অনেক তাবড় নেতারা স্বাধীনতার স্বাদ নিতে উৎসবে মাতোয়ারা৷

তখন কিন্তু গান্ধীজিকে পাওয়া গেল বেলেঘাটার এই হায়দরী মঞ্জিলে। এই হায়দরি মঞ্জিল পরে পরিচিত হয় বেলেঘাটার ‘গান্ধীভবন’ বলে। এর কয়েকদিন পরে পয়লা সেপ্টেম্বর ধর্মান্ধদের ছুরিকাঘাতে খুন হন গান্ধী-অনুগামী শচীন মিত্র। সেদিন থেকে ফের ওই বাড়িতে টানা অনশন শুরু করেন গান্ধীজি।

চৌঠা সেপ্টেম্বর দুই ধর্মের বিশিষ্টজনেরা তাঁর কাছে ক্ষমা চান ও দাঙ্গার বদলে শহরে শান্তি ফেরানোর অঙ্গীকার করার পর তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। তারপর ৭ সেপ্টেম্বর তিনি কলকাতা ছাড়েন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।