তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ মাকড়সার জালের মতো অসংখ্য ছোটো বড় নদী বাঁকুড়া জেলা জুড়ে বিছিয়ে রয়েছে। আর সেই সব নদীর মধ্যে অন্যতম ‘বাঁকুড়ার প্রাণ’ গন্ধেশ্বরী। প্রাচীন থেকে আধুনিক নগর সভ্যতার বিবর্তণের সাক্ষী এই গন্ধেশ্বরী। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক নগর সভ্যতার জাঁতাকলে পিষ্ট এই গন্ধেশ্বরী।

গন্ধেশ্বরীর উৎপত্তিস্থল পুরুলিয়ার মারবেদিয়াটোলার ঘোড়ামুরগা জলাধার থেকে বাঁকুড়া শহরের ঠিক পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটা সময় এই নদী ছিল স্রোতস্বিনী। কিন্তু বর্তমানে এক শ্রেণীর চেতনাবিহীন মানুষের সৌজন্যে গন্ধেশ্বরী আজ মৃতপ্রায়।

বাঁকুড়া শহরের কাছে এই নদীকে দেখলে আর নদী মনে হওয়ার উপায় নেই। নদীবক্ষে প্রতিদিন জমা হচ্ছে শহরের আবর্জনা। একই সঙ্গে শহরের নিকাশী নালার পচা, দূর্গন্ধযুক্ত জলও জমা হচ্ছে সেই গন্ধেশ্বরীতেই। গত কয়েক বছর আগেও এই নদীর দিকে তাকালে দেখা যেত শুধু বালি আর বালি। আর ২০২১ এ দাঁড়িয়ে নদীবক্ষে ঝোপ-ঝাড়-নোংরা আবর্জনাপূর্ণ আর বিস্তীর্ণ কাশবন নজরে পড়বে। ফলে গন্ধেশ্বরী নদী এখন সরু এক নালায় পরিনত হয়েছে। এমনকি এক শ্রেণীর অসেচতন নাগরীকের মল মূত্র ত্যাগের আদর্শ জায়গাও এই নদী চর। পৌরসভার তরফে সতর্কীকরণ বোর্ড দিয়েই দায় সারা হয়েছে বলে অভিযোগ।

আর এই সবের কারণেই ফি বছর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে এই নদী। জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের নদী তীরবর্ত্তী একটা অংশ। ফি বছর নিয়ম করে ৫ জুন আসে। সাড়ম্বরে পালিত হয় ‘পরিবেশ দিবস’। বক্তাদের গালভরা বক্তব্য মঞ্চেই শেষ হয়ে যায়। গন্ধেশ্বরী থাকে গন্ধেশ্বরীতেই। শহরের প্রাণ এই নদীকে বাঁচাতে সেভাবে কোন উদ্যোগই চোখে পড়েনা কোন পক্ষের তরফেই।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক জয়দেব চন্দ্র থেকে গন্ধেশ্বরী নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সন্তোষ ভট্টাচার্যরা প্রত্যেকেই বলেন, গন্ধেশ্বরী নদী রক্ষায় প্রশাসন উদাসীন। সুকৌশলে গন্ধেশ্বরীকে মেরে ফেলা হচ্ছে। রাজ্যের সেচ মন্ত্রী থেকে গ্রিন ট্রাইব্যুনাল সর্বত্র যাওয়া হয়েছে। মন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন কাজ হয়নি। গ্রিন ট্রাইব্যুনাল পৌরসভা ও জেলাপ্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিল। তাতেও কোন কাজ হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

এবিষয়ে বাঁকুড়া পৌরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য দিলীপ আগরওয়াল বলেন, পরিবেশ দপ্তরের বাধায় যন্ত্রের সাহায্যে নদী সংস্কারের কাজ আটকে আছে। এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের নির্দেশে শহরের ড্রেনের জল ‘রি-সাইক্লিং’ করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.