নয়াদিল্লি: বাইশ গজ হোক কিংবা ড্রেসিংরুম, নেতিবাচক কোনও শব্দ পনেরো বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে সবসময় তাড়া করে ফিরেছে তাঁকে। জাতীয় দল হোক কিংবা কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি দল, ওই নেতিবাচক শব্দ সুখের সময় স্থায়ী হতে দেয়নি তাঁর কেরিয়ারে।

২০১৪ আইপিএলে নাইট রাইডার্সের হয়ে টানা তিন ম্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন শূন্য রানে। আবার ওই বছরেই ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচে সুযোগ পেয়ে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। এই সময়গুলোতে যেন নেতিবাচক শব্দগুলো কষিয়ে থাপ্পড় দিয়েছিল তার গালে। সবকিছু ছাপিয়ে ২০১৬ ফের ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাজকোটে অজিদের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ মাঠে নামা।

২০১৭ আইপিএল মরশুম এক অর্থে ঘরে ফেরা ছিল তাঁর কাছে। সেখানেও নিজেকে আর মেলে ধরতে পারেননি। তাই অবসরের জল্পনা চলছিলই। অবশেষে নেতিবাচক সেই শব্দগুলোর সঙ্গে গম্ভীরের অদৃশ্য লড়াই শেষ হল মঙ্গলবার। অবসরের প্রাক্কালে আবেগঘন ভিডিও বার্তায় গম্ভীরের গলায় সেই ‘ইট ইস ওভার গৌতি’ শুনলে দু’চোখের কোন চিকচিক করে উঠতে বাধ্য অনুরাগীদের।

তিন ফর্ম্যাট মিলিয়ে দশহাজারের বেশি রানের মালিক, সর্বোপরি ভারতের দু’টি বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়ের নায়ক অবসর ঘোষণা করলেন মঙ্গলবার। তাই অবসরের আগে ইন্টারনেটে পোস্ট করা এক ভিডিওতে সমর্থক-অনুরাগীদের কিছু বার্তা দিয়ে গেলেন দিল্লীর বাঁ-হাতি স্টাইলিশ এই ওপেনারটি। ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে যার ৯৭ রানের মূল্যবান ইনিংস গেঁথে রয়েছে অনুরাগীদের হৃদয়ে। কম যায় না ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা ৫৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংসটিও।

কিংবদন্তি হয়ে উঠতে পারেননি, তবে ভারতীয় ক্রিকেটকে দিয়েছেন অনেক কিছুই। প্রত্যুত্তরে শেষবেলায় প্রাপ্য সম্মানের সঙ্গে বিদায়টা তাঁকে জানাতে পারল না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে গৌতম গম্ভীরের মত মিতভাষী ব্যাটসম্যানের তাতে কিছু যায় আসার কথা নয়। কারণ ক্রিকেট বোর্ড না পারুক, ভারতীয় ক্রিকেট তাঁকে দু’বার বিশ্বকাপ উপহার তো দিয়েইছে, পাশাপাশি বিশ্বের পয়লা নম্বর টেস্ট টিমের সদস্য হওয়া কিংবা ২০০৯ শ্রেষ্ঠ টেস্ট ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পাওয়াই বা কম কীসের তাঁর কাছে।

অবসর ঘোষণার ভিডিওতে তাই ক্রিকেটজীবণের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হিসেবে এক নম্বর টেস্ট দলের সদস্য হওয়া এবং ২০০৯ আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান হওয়ার বিষয়টি শুরুতে উল্লেখ করলেন গম্ভীর। এছাড়াও নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জয় মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে বলে জানান গম্ভীর।

যেতে যেতে ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের ভালোবাসায় আপ্লুত গম্ভীর তাদের ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না। যে সকল দলের হয়ে দীর্ঘ কেরিয়ারে ক্রিকেট খেলেছেন, গ্লাভস জোড়া তুলে রাখার আগে তাদের প্রত্যেকের কাছেই কৃতজ্ঞ হয়ে রইলেন গৌতি। তবে তাঁর নেতৃত্বে দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া কলকাতার প্রতি একটু বেশিই দুর্বল শোনাল গম্ভীরকে। এছাড়া তাঁর দীর্ঘ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের তালিকায় এরপর একে একে ছিলেন পিচ কিউরেটর, নেট বোলার, কোচ সঞ্জয় ভরদ্বাজ থেকে জাতীয় দলের কোচ, ড্রেসিংরুমের সতীর্থ এবং পরিবারের সদস্যরা।

দেখে নিন গম্ভীরের টুইট করা সেই ভিডিও বার্তা: