নয়াদিল্লিঃ  চিনকে আর হাতে মারতে হল না। প্রকৃতির কোপে চিনের সেনাবাহিনী। হঠাত করে গালওয়ানের নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে প্লাবিত হয়েছে গালওয়ান নদী তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা। গত কয়েকদিনে নদী উপত্যকায় ঘাঁটি গেড়ে ছিল চিনা সেনা। তৈরি করেছিল একাধিক তাবু, ঘাঁটি। জানা যাচ্ছে, নদীর জলের ভেসে গিয়েছে একাধিক ঘাঁটি। যার ফলে চিনের বাহিনী এলাকা ছেড়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত কয়েকমাস ধরে সীমান্তের ওপারে সেনা সমাবেশ করেছিল বেজিং। চিনের দাবি গালওয়ান নাকি তাঁদের। আর তা নিয়েই সংঘাত শুরু। নদীর চারপাশে হঠাত করেই ঘাঁটি তৈরি করতে থাকে বেজিং। এমনকি, স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ছবিতে দেখা গিয়েছে যে, নদীর জল ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যে বেশ কয়েকটি বুলডোজারও তাঁরা নিয়ে এসেছে। রীতিমত মিলিটারি কার্যকলাপ শুরু করে বেজিং।

আর তা রুখে দিতে গেলে গত মাসের ১৫ তারিখ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। ভারতীয় সেনার ২০ জন জওয়ান-সেনা অফিসার শহিদ হন। পালটা চিনের তরফেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আর এরপর থেকেই দুপক্ষের পালটা রণ প্রস্তুতি শুরু। তবে ভারতের তরফে বারবার সেনা সরানোর কথা বলা হয়েছে। দফায় দফায় চলেছে আলোচনাও। কিন্তু এখনও সেনা সরায়নি তাঁরা। তবে এবার আর ভারতকে হাতে মারতে হল না চিনকে।

গালওয়ানের নদীতে হঠাত করেই ব্যাপক জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে নদীর দুধার ভেসে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এক সেনা আধিকারিক জাতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আকসাই চিন এলাকা থেকে উৎপন্ন হওয়া গালওয়ান নদীর জলস্তর বেড়েছে।

ওই সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত হারে বরফ গলতে থাকায়, গালওয়ানের নদীর তীরের যে কোনও জায়গা বিপজ্জনক বলে দাবি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, স্যাটেলাইটের ছবি এবং ড্রোনের ছবি খুটিয়ে দেখছে ভারত। যেখানে ইঙ্গিত মিলেছে, গালওয়ানের পিছনের দিকে চিনের ঘাঁটিগুলি সমস্ত ভেসে গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গালওয়ানের নদীর জল ব্যাপক ঠান্ডা। খরস্রোতাও বটেই। হঠাত জলের স্তর যদি দুপাশে ভেসে যায় তাহলে সে জায়গা থেকে চিন তাঁদের সমস্ত মিলিটারি বিল্ডআপ সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গত কয়েকদিন আগে সীমান্তে দাঁড়িয়েই চিনকে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন ‘গালওয়ান আমাদের’। লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়াতে শুক্রবার ভোরেই লাদাখে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লেহ থেকে সেনার চপারে করে নিমুতে ফরোয়ার্ড পোস্টে পৌঁছন মোদী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। সীমান্তে মোতায়েন সেনার মনোবল বাড়াতে তাঁদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের বীরত্বের জন্যই দেশ আজ সুরক্ষিত।’ লাদাখ সীমান্তে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারত একজোটে লড়াই করবে বলে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ