প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর : সুপার সাইক্লোন আমফান লন্ডভন্ড করে দিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাকে। জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘণ্টায় ১৪০ কিমি গতিবেগে তীব্র ঝড়। সরকারি মতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পথে বসেছে। লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন জমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এদিকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গারুলিয়া পুরসভার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা পড়েছেন মহা বিপদে।

আমফান সাইক্লোন ও অবিরাম বর্ষণে গারুলিয়া পুরসভার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙা বাঁধ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গারুলিয়া পুরসভার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। গারুলিয়া পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কিরন দাস নামে এলাকার বাসিন্দা বললেন, “দিনের পর দিন বাঁধ ভাঙছে এলাকার। ১২ ফুট চওড়া কাঁধ ভাঙতে ভাঙতে এখন ৩ ফুটে এসে ঠেকেছে। যে কোন সময় ভরা কোটালের জলে ভেসে যাবে এই বাঁধ। বহুবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, তবে স্থায়ী সমাধান হয়নি বলেই অভিযোগ মানুষের।

বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে দিন কাটছে আমাদের, এমনটাই জানাচ্ছেন কিরণবাবু। তিনি বলেন, আমফান ঝড়ের রাতে আমরা কেউ ঘুমোতে পারিনি। সব সময় মনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে কখন যে আমরা পরিবার নিয়ে ভেসে যাবো জানি না ।”

স্থানীয় মাঝি অর্জুন বিশ্বাস বললেন, “আমরা গঙ্গার পাড়ে মাছ ধরার ডিঙি নৌকা বেঁধে রাখি। এখানে অনেক নৌকা থাকত। তবে গত এক বছরে অন্তত ১০ টি ডিঙি নৌকা জলে তলিয়ে গেছে ।” স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভোটের আগে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আনা গোনা শুরু হয় এই এলাকায়। কিন্তু কাজের কাজ কেউ করে না।

বর্তমানে বাঁধের ভাঙা অংশে কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সেই জন্য ওই এলাকায় গাছের ডাল পালা, প্লাস্টিক, বালির বস্তা দিয়ে অস্থায়ী ভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে । স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন ভাঙা বাঁধের স্থায়ী সমাধান হোক। কংক্রিটের সাহায্যে মেরামতি করা হোক বাঁধের। এদিকে গারুলিয়া পুরসভার বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সদস্য রমেন দাস বলেন, “আমরা বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। আমরাও চাইছি শক্ত পোক্ত করে বাঁধ মেরামতি হোক। আশা করছি প্রশাসন শীঘ্রই এই বিষয়ে নজর দেবে।”

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।