পাটনা: কিছুক্ষণের জন্য ভোট রাজনীতি উড়ে গেল। পিতার ছবির সামনেই পিতৃবন্ধু নীতীশ কুমারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন চিরাগ পাসোয়ান। এই দৃশ্যের নীরব স্বাক্ষী আর এক ‘শত্রু’ তেজস্বী যাদব।

প্রয়াত রামবিলাস পাসোয়ানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের উপর অংশে রাজনীতির কচকচানি উধাও। প্রথা মেলে বয়ঃজ্যোষ্ঠ নীতীশ কুমারকে ‘পিতা সমান’ চোখে দেখেছেন চিরাগ। বর্ষীয়ান নীতীশ দিয়েছেন শক্ত হয়ে পরিবারের হাল ধরার পরামর্শ।

কিন্তু ভিতরে ভিতরে বয়ে চলেছে তীব্র শত্রুতা। ভোট যুদ্ধে নীতীশ কুমার মুক্ত বিহারের ডাক দিয়ে হইচই ফেলেছেন লোজপা সুপ্রিমো চিরাগ। এনডিএ ছেড়েছেন। আবার নিজেকে মোদীর অনুগত হনুমান বলে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু নীতীশ কুমারকে মানতে নারাজ। চিরাগের লাগাতার আক্রমণের তীক্ষ্ণ জবাব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার।

মঙ্গলবার পাটনায় রামবিলাস পাসোয়ানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান ছিল রাজনৈতিক নক্ষত্রের ছড়াছড়ি। ছিলেন আরজেডি নেতৃত্বে মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব। পিতা লালুপ্রসাদ যাদবের উত্তরসূরী তিনি। আবার গত নির্বাচনে নীতীশ কুমারের সঙ্গে জোটের উপমুখ্যমন্ত্রী।

আরজেডি জোট ছেড়ে নীতীশ ফিরেছেন এনডিএ শিবিরে। সেই থেকে তেজস্বী ও নীতীশের শত্রুতা চরমে। নির্বাচনের প্রচারে তেজস্বী ও নীতীশ পরস্পরকে লাগাতার আক্রমণ করছেন।

বিহারের রাজনীতিতে তিনমূর্তি রামবিলাস পাসোয়ান, লালুপ্রসাদ যাদব ও নীতীশ কুমার। তিনজনেই জয়প্রকাশ নারায়ণের ভাবশিষ্য। তবে সবাই পৃথক দলের নেতৃত্বে। সম্প্রতি রামবিলাস পাসোয়ানের প্রয়াণ হয়। লালুপ্রসাদ যাদব পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাঁচিতে বন্দি। আর নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি দখলে রাখার দৌড়ে।

নির্বাচনে চিরাগ পাসোয়ানের লোজপা বিক্ষুব্ধ জেডিইউ ও বিজেপি বিধায়ক নেতাদের টিকিট দিয়ে আলোড়ন ফেলেছেন। তাঁর সঙ্গে মহাজোটের তেজস্বী যাদবের আসন সমঝোতার পথ খোলা আছে বলেও গুঞ্জন।

রামবিলাস পাসোয়ানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে এইসব রাজনৈতিক সমীকরণ অল্পের জন্য দূরে থাকল। পিতা সমান নীতীশের পরামর্শ নিয়ে পরিবারকে শক্ত হাতে ধরবেন বলে কথা দিলেন চিরাগ পাসোয়ান। পাশে বসে দু জনের কথা নীরবে শুনলেন লালু পুত্র তেজস্বী যাদব।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।