মুম্বই: একাধিক ভারতীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পালিয়েছেন কিংফিশারের মালিক বিজয় মালিয়া। তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য কেন্দ্রের উপর চাপ দিচ্ছেন বিরোধীরা। অভিযোগ ছিল, ৯০০০ কোটি নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর যে পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা নিয়ে নিজেইস রব হলেন মালিয়া।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, বিজয় মালিয়ার ১৪০০০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এরপরই ট্যুইট করেন মালিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলে দিয়েছেন আমার ব্যাংক থেকে নেওয়া টাকার চেয়েও বেশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তখন বিজেপির মুখপাত্ররা আমার বিরুদ্ধে এত কথা বলছে কেন?

বিজয় মালিয়ার প্রথম ট্যুইট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওই সাক্ষাৎকারের পরে আসে। দু’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘মালিয়া ব্যাংক থেকে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে, আর সরকার তাঁর ১৪ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।” নরেন্দ্র মোদীর এই বয়ানের পরিপ্রেক্ষিতে বিজয় বলেন, ‘সরকার আমার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে, আর এরপরেও বিজেপির মুখপাত্ররা আমার বিরুদ্ধে বয়ানবাজি কেন করছে?”

আরেকটি টুইট করে বিজয় লেখেন, ‘ভারতে আমাকে পোস্টার বয় বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি যত টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম, তাঁর থেকে বেশি আমার কাছ থেকে ভারত সরকার বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে।” মালিয়া আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমি ১৯৯২ থেকে ব্রিটেনে আছি, এর পরেও বিজেপি আমাকে পলাতক বলা হয়। এটা কি ঠিক?”

২৭ মার্চ ইডি বিজয় মালিয়ার United Breweries Limited (ইউবিএল) এর শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে নেয়। সেই শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে ইডি ১০০৮ কোটি টাকা উদ্ধার করে। মালিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা চলার জন্য ইডি এই শেয়ার গুলোকে বাজেয়াপ্ত করে।

এর আগেই সরকার মালিয়ার অনেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। এখন আপাতত বিজয় মালিয়াকে লন্ডন থেকে ভারতে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।