শংকর দাস, বালুরঘাট: শখ উপর থেকে দুনিয়া দেখার। ধারে কাছে কোনও উঁচু জায়াগা না পেয়ে অবশেষে দুনিয়া দেখার জন্য মোবাইলের টাওয়ারই বেছে নিল এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোর।

উপর থেকে দুনিয়া দেখার এই শখ পূরণে নাস্তানাবুদ এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মী আধিকারিকরা। ঘটনাটি বালুরঘাট থানার কৈগ্রাম এলাকার। ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের নাম মিঠুন সিং৷ কৈগ্রামের বাসিন্দা সে৷

আরও পড়ুন: ‘এবার পোশাকও নিজেদেরই কিনতে হবে সেনাবাহিনীকে!’ তোপের মুখে মোদী

মিঠুন সিং-এর পরিবার জানিয়েছেন, ছোট থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন মিঠুন। এই কারণে তার চিকিৎসাও চলছে৷ বেশ কিছুদিন ধরেই তার সখ হয়েছিল উপর থেকে তাদের এলাকা ও দুনিয়া দেখবে। কখনও বা রকেটে চড়ে মহাকাশে পাড়ি দেবে বলে গ্রামের বন্ধুবান্ধবদের কাছে ইচ্ছের প্রকাশ করেছে।

এটাই যেন সত্যি হয়ে গেল৷ মঙ্গলবার সকালে পরিবারের লোকেরা তাঁকে বাড়ির কোথাও খুঁজে পায় না৷ তখনই কোন খোঁজ না পেয়ে গ্রামের ভিতরেই খুঁজতে শুরু করে পরিবার। গ্রামের বাসিন্দারাও অনেক খোঁজাখুঁজি করেন৷ তাঁরা পরে লক্ষ্য করেন গ্রামের পাশে একটি মোবাইলের টাওয়ারের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে সে।

এরপর তাকে টাওয়ার থেকে নামানো চেষ্টায় শুরু হয়ে যায় হুলুস্থুলু। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলে। বালুরঘাট থেকে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। খাবার ও দামি মোবাইলের প্রলোভন দেখিয়েও দুপুর পর্যন্ত নামানো যায়নি তাকে। এমনকী, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা গিয়েও সফল হতে পারেনি।

আরও পড়ুন: ফের ব্যস্ত সময়ে মেট্রো বিভ্রাট শহরে

অবশেষে বাড়ির লোকেদের পরামর্শে টাওয়ারের আশপাশ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলার কর্মীরা। সকলের সরে যাওয়ার পর বিকেল চারটে নাগাদ মিঠুন নিজেই মাটিতে নেমে এলে সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

এই বিষয়ে মিঠুনের দাদা মিলন সিং জানিয়েছেন, তাঁর ভাইয়ের মানসিক রোগের চিকিৎসা চলছে। সপ্তাহ কয়েক ধরেই সে আকাশ থেকে নিচের গাছপালা বাড়িঘর ও গোটা দুনিয়া দেখবে বলে সকলকে শুনিয়ে বেড়াচ্ছিল। এটা তার প্রথম টাওয়ারে ওঠা নয়৷

এর দুইদিন আগেও সে একইভাবে টাওয়ারে উঠে বসেছিল। অনেক ভাবে চেষ্টা করে তাকে কিছুতেই নামাতে পারেনি কেউ। ঘণ্টা দুয়েক পর যদিও সে মাটিতে নেমে এসেছিল। এবারও বিকেলে সবাই সরে যেতেই সে টাওয়ার থেকে নিজেই নিচে নেমে আসায় খুশি সকলে।

আরও পড়ুন: পুনম পান্ডের দুঃসাহসিক ভিডিও এবার ছাপিয়ে গেল সব রেকর্ড

দমকল বিভাগের আধিকারিক লক্ষ্মণ কর্মকার জানিয়েছেন, সকাল থেকে তাঁরা নানা ভাবে তাকে নামানোর চেষ্টা করেছেন। পাছে সে উপর থেকে ঝাঁপ দেয় এই আশঙ্কায় ও বাড়ির লোকেদের বাঁধায় টাওয়ারে ওঠা যায়নি। তবে ভালোয় ভালোয় কিশোরটি নিচে নেমে এসেছে এটাই সকলের বড় পাওনা।

প্রসঙ্গত, বছর দেড়েক আগে বালুরঘাটেরই জলঘর পঞ্চায়েত এলাকায় একইভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি তাল গাছে চড়ে বসেছিল। দমকল কর্মীরা ও অন্যান্যরা তাঁকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করলে উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রথমবার রোলাঁ গারোয় সেমিফাইনালে ম্যাডিসন