স্টাফ রিপোর্টার, নন্দীগ্রাম: তিন দিনের মাথায় মেদিনীপুরের সাংসদ রাজ্য বিজেপির সভাপতিকে চ্যালেঞ্জ জানালেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গত শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অভিনন্দন যাত্রা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই অভিনন্দন যাত্রার কোনও পুলিশি অনুমতি ছিল না। ফলে রেয়াপাড়ার কাছে সেই অভিনন্দন যাত্রায় আসার সময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে পথেই আটকে দেয় পুলিশ। যারফলে সেখানেই ট্যাবলোর ওপর থেকে দিলীপবাবু তার বক্তব্য রাখেন।

সেখানে তিনি রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “পরের নির্বাচনে আপনি কোথায় দাঁড়াবেন ঠিক করে নিন। বিজেপি পরের বার জিতবেই”। শনিবার দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে এবার দিলীপ ঘোষকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি শুনলাম মেদিনীপুরের সাংসদ নাকি রেয়াপাড়াতে এসে আমাকে নির্বাচনে কোথায় থেকে লড়ব তার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মন্তব্যে আমার কোনও আপত্তি নেই। আমি মেদিনীপুরের সম্মানীয় সাংসদকে অনুরোধ করবো তিনি নিজেই ঠিক করে দিন আমি কোথায় লড়ব। যেটা সবচেয়ে ওনার কাছে সহজ এবং আমার কাছে কঠিন সেই জায়গাটা ঠিক করে নিতে হবে। উনার কাছে শর্ত আমার একটাই থাকবে। উনার ঠিক করে দেওয়া সিটে আমি আর উনি লড়ব। এই শর্তে যদি উনি রাজি থাকেন তবে আমিও রাজি আছি।”

মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে এক সরকারি প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন, রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন, সেচ ও পরিবহন দফতরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই মঞ্চ থেকেই নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের জন্য তাঁর ওপর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি সভাপতিকে কটাক্ষ করে আরও বলেন, “২০১২ সাল পর্যন্ত নন্দীগ্রামের রেল প্রজেক্ট যেখানেই ছিল আমরা যা করে দিয়ে গিয়েছিলাম সেখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরপর একটা ইটও গাঁথেনি কেউ। তাই যারা ভাষণ দিচ্ছেন রেয়াপাড়ায় দাঁড়িয়ে তাদের আমি বলবো ভাষণ দেওয়ার আগে নন্দীগ্রামের রেল প্রজেক্টটা যদি একটু এগিয়ে দেন তাহলে আমিও আপনার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেবো আমার কোনও অসুবিধে নেই।”

মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম- ১ ব্লকে পাঁচটি নিকাশি খাল ও তিনটি পুকুর এবং নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে ১৬টি নিকাশি খাল খনন কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেন তিনি। যে কাজের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের ব্যয় করা হচ্ছে ৬ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা। নন্দীগ্রামের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে জোর দিয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রাম- ২ ব্লকে দোফসলি চাষ করা হলেও নন্দীগ্রাম- ১ ব্লকে সেভাবে পরিকাঠামোর অভাবে দোফসলি চাষ হয়ে ওঠেনি। তাই এদিন নন্দীগ্রাম-১ ব্লককে দোফসলি চাষের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে পরিকাঠামো উন্নয়নের সূচনা করেন তিনি।

এদিন তিনি উন্নয়নমূলক কাজের ডালি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে বলেন, “আমরা ৬ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা দিয়ে এখানে বাস্কেট বানাচ্ছি। এছাড়াও নন্দীগ্রামে বাইরের লোক এলে তারা থাকতে পান না। তাই আমরা বাস স্ট্যান্ডের উপরে মোটামুটি রাত্রিযাপনের জন্য একটি শেল্টার করে দিচ্ছি। এছাড়াও হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ এখানে আছে প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ এখানে হচ্ছে। লকগেট থেকে জেলিহাম পর্যন্ত রিভার প্রটেকশনেরও কর্মসূচি রয়েছে। আরও অনেক কাজ আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। আমি শুধু একটা কথা বলব, আপনারা হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের কাজে যেমন সহযোগিতা করেন। তেমন, এই তিনটি প্রকল্পের কাজে সহযোগিতা করবেন।”

মঙ্গলবারের এই অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক পার্থ ঘোষ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস, হলদিয়া মহকুমা শাসক শ্রুতিরঞ্জন মহান্তি সহ অন্যান্যরা।