সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: লালগড়ের বাঘকে নিয়ে এখন ত্রস্ত বন দফতর। গত শুক্রবারের পর থেকে বাঘের আর কোনও খোঁজ মিলছে না। এটাই বন দফতরের কর্মীদের নতুন করে সমস্যায় ফেলেছে৷

কোন পদ্ধতিতে তাঁরা ‘হারিয়ে’ যাওয়া বাঘকে আবার ‘ঘরে’ ফেরাবেন, তা নিয়ে চিন্তিত বন দফতরের মুখ্য বনপাল থেকে বিভাগীয় বনাধিকারিক প্রত্যেকে। লালগড়ের বাঘ আছে কি না, বিতর্ক ক্রমে বাড়ছে। শুক্রবার শেষবার বাঘের দর্শন পেয়েছিলেন লালগড়ের স্থানীয় মানুষ, বন দফতর কর্মীরা। তার পর ‘হালুম’ ডাক দিয়ে এক মোক্ষম লাফে তাকে ধরার জন্য তৈরি করা জাল ছিঁড়ে পালিয়ে যায় সে। সেই শেষ।

শনিবার সকালের দিকে বাঘের পায়ের ছাপ মিলেছিল। তবে বাঘের দেখা মেলেনি। তার পর কেটেছে ৪৮ ঘণ্টা। বাঘের কোনও চিহ্নই পাচ্ছে না বলে জানাচ্ছে বন দফতর। এত দিন ধরে বন দফতরের কর্মীরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের ‘ট্র্যাকেই’ রয়েছে বাঘ। বাঘ ধরা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে সেই ‘ট্র্যাক’ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে বাঘ। সে কোথায় রয়েছে, তা আর বুঝতেই পারছেন না বন কর্মীরা। ‘ট্র্যাক’ লেস বাঘ কার্যত রাতের ঘুম কেড়েছে তাঁদের।

মেদিনীপুরের বিভাগীয় বনাধিকারিক রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “ শুক্রবারের পর থেকে বাঘটার কোনও পাত্তাই নেই। কোথায় চলে গেল বুঝতেই পারছি না। আমাদের সমস্যা আরও বেড়েছে। বুঝতেই পারছি না কোথায় চলে গেল।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “নতুন কোনও পদ্ধতি অবলম্বন করে বাঘ ধরার চেষ্টাও করা যাচ্ছে না। আগেই বলেছি, বাঘটা এত দিন আমাদের ট্র্যাকে ছিল। গত ৪৮ ঘণ্টায় আমরা বাঘ নিয়ে জাস্ট ক্লু লেস হয়ে পড়েছি। ওকে দেখতে পেলে তবে না নতুন কোনও পদ্ধতি ব্যবহার করে নতুন করে কোনও প্ল্যান প্রোগ্রাম করে ওকে ধরার চেষ্টা করব। আমরা বেশ চাপের মধ্যেই রয়েছি।”

মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহার কথায়ও একই সুর। তিনি বলেন, “নতুন কিছু চেষ্টা করা এই মুহূর্তে বেশ চাপের ব্যপার। একেই বনের মধ্যে মানুষের ঘোরাফেরা আটকানো যাচ্ছে না। এ বার নতুন কিছু চেষ্টা করতে গিয়ে যদি বাঘ লোকালয়ের মধ্যে চলে আসে তখন আমরা মুশকিলে পড়ে যাব।’’ তিনি বলেন, “এতদিন বাঘ বনে ছিল। ওকে দেখা যাচ্ছিল। এখন দেখতেই পাচ্ছি না। কোথায় লুকিয়ে গিয়েছে বোঝা যাচ্ছে না। আমরা শনিবার সকাল থেকে প্রচুর খুঁজেছি। কিন্তু ওই একটা পায়ের ছাপ ছাড়া দু’ দিন ধরে আর কিছু খুঁজে পাইনি। চাপ বাড়ছে।”