স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্বকে এড়িয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন মুকুল রায়৷ এবার তিনি সরাসরি এড়িয়ে গেলেন পশ্চিমবঙ্গকেই৷ বাংলা ছেড়ে তিনি এবার হতে চলেছেন দিল্লির বাসিন্দা৷ তিনি এবার রাজধানীর ভোটার হয়ে হলেন৷ সেখানেই প্রয়োগ করবেন নিজের ভোটাধিকার৷

আপাতভাবে বিষয়টি খুবই সাধারণ৷ কারণ, আইন অনুযায়ী ভারতের যেকোনও জায়গার ভোটার হতে পারেন দেশের যেকোনও নাগরিকই৷ যে এলাকায় তিনি ভোটার হবেন, সেখানে তাঁর একটি ঠিকানা থাকা দরকার৷ সেই ঠিকানা থেকেই তিনি আবেদন করতে পারেন ভোটার হওয়ার জন্য৷ বা আগের ঠিকানা থেকে তা বর্তমান ঠিকানায় স্থানান্তরিতও করতে পারেন৷ ঠিক যেমনটা করেছেন মুকুল রায়৷ সূত্রের খবর, বাংলার ভোটার মুকুল রায়ের দিল্লিতে একটি ঠিকানা রয়েছে৷ রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেই তিনি নয়াদিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে বাসভবন রয়েছে৷ সেখান থেকেই তিনি এবার দিল্লির ভোটার হয়ে যাচ্ছেন৷

কিন্তু এই সাধারণ বিষয়ের মধ্যেও অনেকে কৌশলী মুকুলের কুশলী-চাল দেখতে পাচ্ছেন৷ কারণ, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে রাজ্য সরকারের তরফে নানাভাবে হেনস্তার চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল৷ মুকুল রায়ও একই অভিযোগ তুলছিলেন৷ তাঁর ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে, তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে পুলিশ-সিআইডিকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করছিলেন৷ অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ মামলা হয়েছে জামিন অযোগ্যধারায়৷ সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ হয়েছে৷ সেই মামলার অভিযোগকারী নম্রতা দত্তই মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন৷

ফলে এসব নিয়ে আগামিদিনে হেনস্তার মুখে পড়তে পারেন মুকুল রায়৷ তাঁকে সিআইডি ডেকে জেরা করতে পারে৷ এমনকী গ্রেফতারির মুখেও তাঁকে পড়তে হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন৷ এ রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে তাঁকে হেনস্তা করা যতটা সহজ, দিল্লিবাসী মুকুলকে জেরা বা গ্রেফতার করা রাজ্য পুলিশ বা সিআইডির পক্ষে ততটা সহজ নয়৷ কারণ, সেক্ষেত্রে মুকুল রায়কে জেরার জন্য ডাকতে হবে৷ দিল্লিতে গিয়ে এই কাজ করতে হলে, সেখানকার পুলিশের সাহায্য ছাড়া তা সম্ভব নয়৷ আর দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে৷ মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, দিল্লি পুলিশকে সঙ্গত কারণ দেখাতে না পারলে, রাজ্য পুলিশ বা সিআইডি তাদের সহযোগিতা পাবে না৷

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, শুধু রাজ্য সরকার নয়৷ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্য বিজেপিকেও এড়িয়ে যেতে পারবেন মুকুল রায়৷ তাঁর কর্মক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গ হলেও তিনি আদতে থেকে যাবেন দিল্লির নেতা হয়েই৷ অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবেই তিনি এ রাজ্যে আসবেন৷ নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন৷

- Advertisement -