শেখর দুবে: যুদ্ধের হুমকি থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর পাকিস্তানের শান্তিবার্তা৷ পাকিস্তান তৈরি হওয়ার পর যতবার এই প্রতিবেশি ইসলামিষ্ট রাষ্ট্রটি ভারতকে শান্তির বার্তা দিয়েছে তার বেশিরভাগ সময় কিছুদিন পরেই পিছন থেকে আক্রমণে রক্ত ঝরিয়েছে আমাদের দেশের৷

দু’শো বছরের পরাধীনতার গ্লানি সরিয়ে সেই স্বাধীনতা লাভ করেছে দুটি দেশ, ভারত ও পাকিস্তান৷ ২২ অক্টোবর ১৯৪৭ , পাকিস্তানের জঙ্গি ও সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে দখল করতে শুরু করে কাশ্মীর৷ এরপর ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭ ভারতীয় সেনাবাহিনী আসরে নামে৷ এরপর লেফটন্যান্ট জেনারেল কারিয়াপ্পার নেতৃত্বে কাশ্মীরে ‘স্বচ্ছভারত’ অভিযান শুরু করে ভারতীয় সেনা৷ পুরো কাশ্মীর যখন একটু একটু করে উদ্ধার করে ফেলছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ঠিক তখনই এক ভয়ঙ্কর ভুল করে বসেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু৷ যার মাশুল আজও গুনতে হচ্ছে আমাদের৷

উনি কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের দ্বারস্থ হন৷ রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্দেশ মতো যুদ্ধ বন্ধ করে দু’দেশ কিন্তু এরপরই শুরু হয় আসল খেলা৷ কাশ্মীরকে জঙ্গিমুক্ত করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী আর না এগোলেও কাশ্মীরের একটি অংশ থেকে যায় পাকিস্তানের হাতে৷ রাষ্ট্রপুঞ্জের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাশ্মীরের জনগনের গণভোটের দাবিকে অস্বীকার করে কাশ্মীরের একটি অংশের দখল নেয় পাকিস্তান৷ সেই যুদ্ধের সময়ও মুখে শান্তির কথাই বলে আসছিল জিন্নার পাকিস্তান৷

১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে ১৯৯৯ সালে ভারত-পাক শান্তি ও বন্ধুত্বের আবহাওয়া তৈরির চেষ্টা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী৷ ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ দিল্লি-লাহোর বাস যাত্রা শুর করেন উনি৷ নিজে এই বাসের যাত্রী হয়ে পাকিস্তান গিয়েছিলেন অটলজী৷ তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরিফ৷ গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যম এবং ভারতকে দেখিয়ে টানা শান্তির বুলি আওড়ে গিয়েছিলেন শরিফ৷ এবং ঠিক তার কয়েকমাস পরেই মে মাসে আইএসআই জঙ্গি এবং পাকিস্তানের সেনা মিলিতভাবে কাশ্মীর দখল অভিযানে নামে৷ দখল করে ভারতের বেশ কয়েকটি খালি পড়ে থাকা আর্মি চেক পোস্ট৷ পাকিস্তানের শান্তির টোপ গেলা ভারতকে বাধ্য হয়ে ‘কার্গিলের যুদ্ধ’ লড়তে হয়৷ এরপরে অবশ্য মাত্র দু’মাসের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীর জওয়ানরা কাশ্মীর থেকে পাক সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দেয়৷

২০১৯ এর শুরুতে ঠিক আগের মতোই মুখে শান্তির বার্তা ও হাতে লুকিয়ে রাখা ছুরি নিয়ে খেলছে ইমরান খানের পাকিস্তান৷ ১৪ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল হামলা চালায় সিআরপিএফ কনভয়ে৷ শহিদ হন আমাদের ৪০জন জওয়ান৷ এই হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-ই-মহম্মদ, যার প্রধান মাসুদ আজাহার এখনও রয়েছেন পাকিস্তানের আশ্রয়ে৷ একইভাবে ভারতে ২৬/১১ সহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল চক্রী হাফিজ সঈদকে জামাই আদরে পাকিস্তানে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে পাকিস্তান৷

প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘল করে গুলি চালাই পাক আর্মি ও সন্ত্রাসবাদীরা৷ ঠিক তার কিছুক্ষণ পর সংবাদমাধ্যমে এসে শান্তির বার্তা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ বুধবারও LOC লঙ্ঘন করে নিজের ফাইটার জেট এফ১৬ দিয়ে ভারতে বোম ফেলে গিয়েছে পাকিস্তানি বায়ু সেনা৷ জিন্না থেকে ইমরান, পাকিস্তান বদলায়নি এতটুকুও৷ মুখে শান্তিরবার্তা দিলেও বারাবর পিছন থেকে কাপুরুষোচিত আক্রমণে ভারতের রক্ত ঝরাতেই অভ্যস্ত এই জঙ্গি প্রেমী দেশটি৷ স্বভাবতই ইমরানের ‘শান্তির’ ফাঁদে পড়ে আরও বড় বিপদ ডেকে আনার কোনও মানে হয় না আমাদের৷